ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে পার্থক্য কী?

 

ভিনিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমঝোতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্যাম্প বারবার দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগ ২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর হবে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওবামার মতো অর্থ পরিশোধ করিনি। তিনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু মিলও রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির স্থগিত অর্থ ছাড়ের বিষয় রয়েছে। যদিও বর্তমান হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলেই কেবল এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

আলোচনার একটি পর্যায়ে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে। তবে অর্থায়নের উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় পরে ট্রাম্প এ সংক্রান্ত খবরকে “ভুয়া সংবাদ” বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সমঝোতা এবং ওবামা প্রশাসনের স্বাক্ষরিত Joint Comprehensive Plan of Action (জেসিপিওএ)-এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিল হলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা। উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে দুটি উদ্যোগেরই একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরানের জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কোনো চুক্তিতেই সরাসরি গুরুত্ব পায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।

দুই প্রেসিডেন্টের নীতির সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে। ওবামা কখনো ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নেননি। বিপরীতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি, এসব হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির ইউরেনিয়াম মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ে। ইরান আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগে পারমাণবিক কর্মসূচির প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ওবামার চুক্তি ছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক; আর ট্রাম্পের বর্তমান উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

পূর্বের খবরজি-সেভেন সম্মেলনে ট্রাম্পকে জার্মানির জার্সি উপহার দিলেন ম্যার্ৎস
পরবর্তি খবর‘কল্কি’র সিক্যুয়েলে আলিয়া? নতুন জল্পনায় সরগরম বলিউড
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!