ভিনিউজ ডেস্ক : ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টম্বলেন শহরে স্কাইডাইভিং প্রশিক্ষণের সময় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে মিউর্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের একটি এয়ারফিল্ডের পাশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বিমানের পাইলট, পাঁচজন স্কাইডাইভিং প্রশিক্ষক এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র নার্স রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মিউর্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই জানান, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলটি একটি আবাসিক এলাকার একেবারে কাছাকাছি হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো পথচারী বা স্থানীয় বাসিন্দা হতাহত হননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে বিকট শব্দে ভূপাতিত হয়। ঘটনাস্থলে নিহতদের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন, ফলে দুর্ঘটনার পর সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পুলিশ, জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং প্রায় ৫০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। তবে বিমানটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় আরোহীদের কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রিফেক্ট ইভ সেগুই জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এই ঘটনাকে “ভয়াবহ ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথাও জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট আকারের স্কাইডাইভিং বিমানে যাত্রী ও সরঞ্জামের অতিরিক্ত চাপ, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া—যেকোনো কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর স্কাইডাইভিং বিমানের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ফ্রান্সের এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও একই ধরনের প্রশ্ন আবার সামনে চলে এসেছে। তদন্তে কী উঠে আসে, তার দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।




