রানির মুকুটে নতুন পালক, লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট

 

vnewsbd.com : ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিন দশকের বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। নানা সময়ে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বলিউডের অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। এবার তাঁর দীর্ঘ অভিনয় যাত্রার মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি সম্মানের পালক। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডক্টরেট পেয়েছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

মেলবোর্নে আয়োজিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের (আইএফএফএম) বিশেষ অনুষ্ঠানে রানির হাতে সম্মানসূচক এই ডিগ্রির প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের কল্যাণ এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন রানি। নব্বইয়ের দশকে অভিনয়ে পথচলা শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের জন্য তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র জায়গা। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন এমন সব গল্পে, যেখানে নারীর সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যক্তিসত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

‘ব্ল্যাক’, ‘হিচকি’, ‘মর্দানি’ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-র মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতা তাঁকে সমসাময়িক বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে নারীপ্রধান গল্পে তাঁর অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীর চরিত্রায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

সাম্মানিক ডক্টরেট পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রানি লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এই সম্মান শুধু একজন ভারতীয় অভিনেত্রীর প্রতি নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তির প্রতিও স্বীকৃতি। কৈশোরে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের সময় তাঁর সামনে কোনো নির্দিষ্ট পথনির্দেশ ছিল না। নিজের কাজকে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেই তিনি এগিয়ে গেছেন।

রানির কথায়, ইতিহাস তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। চলচ্চিত্রকে তিনি দেখেছেন এমন একটি ভাষা হিসেবে, যার মাধ্যমে মানুষের অনুভূতি ও জীবনকে বোঝা যায় এবং মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। তাঁর মতে, সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে উদ্‌যাপনও করা সম্ভব।

নারী চরিত্র নিয়ে কাজের প্রসঙ্গেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, পর্দায় যেসব নারীর জীবন ও সংগ্রামকে তিনি তুলে ধরেছেন, সেগুলো একদিন বিভিন্ন মহাদেশ ও সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে-এটা তিনি কখনো ভাবেননি।

লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মান তাই শুধু রানির ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারও একটি প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেলবোর্নের অনুষ্ঠানে সম্মান পাওয়ার পর রানির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভক্তদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

অভিনয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই সাম্মানিক ডক্টরেট রানির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকল। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিন দশকের পথচলার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন সম্মান তাঁর সাফল্যের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করল।

পূর্বের খবরগ্যাস সংকট : বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিল্প, ঘাটতি ১৭৭ কোটি ঘনফুট
পরবর্তি খবররাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার নোটিশ, ২৮ আগস্টের মধ্যে জবাব চেয়েছে লোকসভা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!