সোভিয়েতকে নজরে রাখা মার্কিন ‘গুপ্তচর’ উপগ্রহ ধ্বংস, ছড়িয়ে পড়ল মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ

 

বিশেষ প্রতিবেদন

ভিনিউজ ডেস্ক : সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নজরদারি চালাতে মহাকাশে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরোনো গোয়েন্দা উপগ্রহ ধ্বংস হয়ে গেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার ওপরে উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। কী কারণে উপগ্রহটি ভেঙে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর ধ্বংসাবশেষ থেকে অন্য উপগ্রহের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।

শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক কর্মকাণ্ড ও রাডার ব্যবস্থার ওপর নজর রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা উপগ্রহ ব্যবহার করত। ১৯৬০ সালের ২২ জুন থেকে এ ধরনের গোপন নজরদারি কার্যক্রমের আওতায় মহাকাশে একাধিক উপগ্রহ পাঠানো শুরু করে ওয়াশিংটন। এসব উপগ্রহের মাধ্যমে সোভিয়েত রাডার সঙ্কেত, যোগাযোগব্যবস্থা ও সামরিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র টাইটান-২ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠায় ইউএসএ-৩২ নামের একটি গোয়েন্দা উপগ্রহ। এর গোপন নাম ছিল ‘ফারাহ-৩’। মার্কিন অভিনেত্রী ফারাহ ফসেটের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। উপগ্রহটির প্রকৃত কাজ ও সক্ষমতা দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছিল।

মহাকাশে পৌঁছানোর পর ফারাহ-৩ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি কক্ষপথে অবস্থান করে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার ও অন্যান্য সামরিক সঙ্কেত পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপগ্রহটি ঠিক কত বছর সক্রিয় ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০২১ সালেও ফারাহ-৩ এবং এর পরবর্তী প্রজন্মের একটি উপগ্রহ ‘ফারাহ-৫’-কে নিম্ন পৃথিবীকক্ষ বা লো আর্থ অরবিটে অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল।

মহাকাশ পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর ফারাহ-৩ হঠাৎ ভেঙে যায়। উপগ্রহটি কী কারণে ধ্বংস হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উপগ্রহটির পুরোনো ব্যাটারি বিস্ফোরিত হওয়া কিংবা অন্য কোনো মহাকাশযান বা মহাকাশের ভাসমান বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে কোনো কারণই এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

গবেষকদের মতে, নিম্ন পৃথিবীকক্ষপথে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সক্রিয় উপগ্রহের পাশাপাশি পুরোনো রকেটের অংশ ও বিভিন্ন ধরনের মহাকাশবর্জ্য ঘুরছে। ফলে ভবিষ্যতে উপগ্রহের সঙ্গে মহাকাশবর্জ্যের সংঘর্ষের ঘটনা বাড়তে পারে। একটি ছোট বস্তুও অত্যন্ত বেশি গতিতে চলার কারণে সক্রিয় কোনো উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

ফারাহ-৩ ধ্বংসের ঘটনায় অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো উপগ্রহের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে না। তবে এই ঘটনা মহাকাশবর্জ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ পুরোনো উপগ্রহ ধ্বংস হয়ে ছড়িয়ে পড়া টুকরোগুলো দীর্ঘ সময় কক্ষপথে ঘুরতে পারে এবং ভবিষ্যতে অন্য মহাকাশযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মহাকাশবর্জ্যের সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসি নতুন নিয়মে নির্ধারণ করেছে, কোনো উপগ্রহের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ২৫ বছর।

নতুন প্রজন্মের উপগ্রহ তৈরির সময়ও এখন কক্ষপথে বর্জ্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার পর উপগ্রহকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে এনে পুড়িয়ে ফেলার জন্য অবশিষ্ট জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযান শেষে ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে, যাতে পুরোনো উপগ্রহের ভেতরে সঞ্চিত শক্তি থেকে বিস্ফোরণ না ঘটে।

ফারাহ-৩ ধ্বংসের আগে সেটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্য উপগ্রহের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবু ফারাহ-৩-এর পরিণতি মহাকাশে পুরোনো উপগ্রহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

-আনন্দবাজার অবলম্বনে

পূর্বের খবরবলিউড : শ্রীলীলার যে ভিডিওতে ২৫ কোটি ৮১ লাখ ভিউ, বলিউডেও জমছে অভিষেকের প্রস্তুতি
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!