ভিনিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা, বহিঃসীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করতে বৈঠকে বসছেন জোটের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শনিবার জার্মানির মিউনিখে এই বৈঠকে ইইউর ১৭টি সদস্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে ইইউর অভ্যন্তরীণ ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার মাগনুস ব্রুনারও অংশ নেবেন।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈঠকে ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি আরও পরিমার্জন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং ইউরোপ থেকে অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
অভিবাসন নীতিতে সম্প্রতি যেসব পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা, সীমান্তে চাপ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক বছর ধরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অভিন্ন নীতি তৈরির বিষয়টি ইইউর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি স্পেনের ছিটমহল সেউটায় অভিবাসীদের প্রবেশের ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত এই স্প্যানিশ ছিটমহলে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সাগর পাড়ি দিয়ে এবং সীমান্তের বেড়া ডিঙিয়ে প্রবেশ করেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী সেউটায় প্রবেশের পর ইইউর বিভিন্ন দেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ইউরোপের বহিঃসীমান্তে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পক্ষে জোটের বেশ কয়েকটি দেশ। একই সঙ্গে যারা বৈধভাবে ইউরোপে থাকার অনুমতি পাচ্ছেন না, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়েও চাপ রয়েছে।
বৈঠকের পাশাপাশি জার্মানি, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস ইউরোপের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসন কেন্দ্র বা ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়েও আলাদাভাবে আলোচনা করবে। এসব কেন্দ্রে ইউরোপে থাকার অনুমতি না পাওয়া অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত রাখার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জার্মানি চলতি বছরের শেষ নাগাদ আফ্রিকা বা এশিয়ার কোনো একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছে। তবে তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার, আইনি বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ভাগাভাগি, আশ্রয়প্রার্থীদের পুনর্বণ্টন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করে আসছে। নতুন উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে একদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পাশাপাশি অন্যদিকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে ইইউ।
মিউনিখের বৈঠকে তাই শুধু নতুন নীতি গ্রহণ নয়, ইতোমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাঠামো নিয়েও আলোচনা হবে। অভিবাসনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কতটা সমন্বয় তৈরি করা যায়, বৈঠক থেকে তার একটি দিকনির্দেশনা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




