মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবরোধ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনের প্রথম প্রহরে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের আগে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যদিও সম্প্রতি কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল, নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এখানে কোনো ধরনের অবরোধ বা বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো স্থায়ী সমাধান না আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকে না থাকার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। যদিও এটি বাজারে কিছুটা ভারসাম্য আনতে পারে, তবুও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: আলজাজিরা।




