শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি—মূলহোতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতাল-এ চাঁদাবাজি ও চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এই চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে ঢাকানড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মামলার মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ফালান মিয়া, রুবেল, স্বপন কাজী ও শাওন হোসেন।

এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম-এর প্রতিষ্ঠানে এমন হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ এপ্রিল সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে প্রবেশ করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। এ সময় ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানা-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে মঈনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালের জন্য পণ্য সরবরাহের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কয়েক দফায় বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। র‍্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পূর্বের খবরপহেলা বৈশাখের রঙিন আয়োজন—ঐতিহ্য, ফ্যাশন ও আনন্দের পূর্ণাঙ্গ রূপ
পরবর্তি খবরবগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী