ভিনিউজ : সেনা সরকার সমর্থিত সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় বিধ্বস্ত মিয়ানমারের একটি বৌদ্ধ বিহার৷ সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় বিধ্বস্ত মিয়ানমারের একটি বৌদ্ধ বিহার৷ মিয়ানমারের জান্তা সরকার এই প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি৷ তবে, সরকারবিরোধীদের প্রতিহত করতে প্রায়ই বিমান হামলা করে সামরিক বাহিনী ।
মিয়ানমারে মধ্যাঞ্চলীয় সাহাইংয়ের একটি বৌদ্ধ বিহারে ধ্যানরত অন্তত একশ মানুষের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের৷ এতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে৷
২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানে দেশটির ক্ষমতা দখল করে সামরিক জান্তা৷ শুক্রবারের এই হামলাটিকে দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি শক্তির ওপর সর্বশেষ প্রাণঘাতী আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে৷
শনিবার সরকারবিরোধী সংগঠন সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অব মিয়াউং টাউনশিপ (সিডিএসওএম)-এর মুখপাত্র নওয়ে উ বলেন, হামলাটি মধ্য মিয়ানমারের মিয়াউং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে চালানো হয়েছে৷ তিনি বলেছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন৷ এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ২০ জন৷
ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, একটি সামরিক যুদ্ধবিমান ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে৷ ওই গ্রামবাসী আরও বলেন, দ্বিতীয় হামলায় কাছের একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷
ওই হামলার ভুক্তভোগীরা সবাই বেসামরিক নাগরিক বলেও জানা গেছে৷ গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় উপবাসকাল উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ধ্যান শিবিরে শতাধিক মানুষ অংশ নিচ্ছিলেন৷
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্রপন্থি সিডিএসওএম-এর মুখপাত্র নওয়ে উ বলেন , ‘‘এটি ভুল করে করা কোনো আঘাত নয়, তারা ইচ্ছাকৃত ভাবেই একটি বিহারে হামলা চালিয়েছে৷’’
মিয়ানমারের জান্তা সরকার এই প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি৷ তবে, সরকারবিরোধীদের প্রতিহত করতে প্রায়ই বিমান হামলা করে সামরিক জান্তারা৷
দেশটিতে বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেজাতিসংঘ৷ মিয়ানমারের জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএস) সেনা-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘‘বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে ও ইচ্ছাকৃত বিমান হামলার’’ অভিযোগ এনেছে৷
১৬ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ তাদের দাবি, সেনা অভিযান শুধু বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেই করা হয়েছে৷
মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে৷
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বাচিত নেতা ও নোবেলজয়ী অং সান সু চির সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয়৷




