ইমরানের মুক্তির দাবিতে ফের বিক্ষোভ রোববার , পাকিস্তানে আধাসেনা মোতায়েন; রক্ত মজুত করছে হাসপাতাল

 

ভিনিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আবারও বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল ও সমমনা সংগঠনগুলো। আগামী রোববার রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্রদের কয়েকটি সংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বড় জনসমাগমকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক কন্টেনার এনে বিভিন্ন সড়ক ও প্রবেশপথ বন্ধ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য প্রবেশ ঠেকাতে ২০ হাজারের বেশি কন্টেনার জড়ো করা হয়েছে। বুধবার থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর আশপাশে রেঞ্জার্স বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে বাড়তি রক্ত মজুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তোষাখানা-সংক্রান্ত মামলায় ২০২৫ সালে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আল-কাদির রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে অবৈধভাবে জমি ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ইমরানকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে থাকা ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দল ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ইমরানের চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিকে সামনে রেখে তাঁর সমর্থকেরা নতুন করে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে ওঠা সব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ইমরান খানের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দলও বিভিন্ন সময়ে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এবারের কর্মসূচিকে ঘিরে তাই আগেভাগেই রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। একদিকে ইমরানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের রাজপথে নামার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা—দুইয়ের মুখোমুখি অবস্থানে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রোববারের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে এবং সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘাত এড়ানো যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর পাকিস্তানজুড়ে।

-আনন্দবাজার

পূর্বের খবরজিও নিউজ প্রতিবেদন : আফগানিস্তান থেকে হামলার চেষ্টা, ৮ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!