অকালে বুড়িয়ে যাচ্ছে মস্তিষ্ক! অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি এড়াতে যেসব অভ্যাস জরুরি

 

রুমা আহমেদ

ভিনিউজ : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি পরিবর্তিত হয় মস্তিষ্কও। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও কিছু দৈনন্দিন ভুল অভ্যাসের কারণে শরীরের বয়সের আগেই মস্তিষ্ক বুড়িয়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ব্রেন এজ গ্যাপ’ অর্থাৎ মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স যদি প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের অকাল বার্ধক্য ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্স, স্মৃতিভ্রংশ, স্ট্রোক, অবসাদসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে অকালমৃত্যুর আশঙ্কাও বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের বয়স শরীরের বয়সের তুলনায় কয়েক বছর বেশি হলে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে।

যেসব কারণে দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে মস্তিষ্ক

মানসিক চাপ: দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনের অতিরিক্ত উপস্থিতি মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণকারী অংশ হিপোক্যাম্পাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ায়।

অপর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত ৫-৬ ঘণ্টার কম ঘুম মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার: কৃত্রিম উপাদান, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করে। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নিঃসঙ্গ জীবনযাপন: পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও কমতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্ব অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

কীভাবে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন, বই পড়ুন, ধাঁধা বা স্মৃতিশক্তির অনুশীলন করুন। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকাও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কের সুস্থতা রক্ষা করা মানেই শুধু স্মৃতিশক্তি ভালো রাখা নয়; বরং ভবিষ্যতের জটিল স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়।

পূর্বের খবরবিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে টিকিটের দামে বড় পতন, নেপথ্যে রোনাল্ডো-যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়
পরবর্তি খবরউখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে অন্তত আট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!