ভিনিউজ স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব ইতোমধ্যেই রুদ্ধশ্বাস সব ম্যাচ উপহার দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, অতিরিক্ত সময়ের লড়াই এবং একের পর এক চমক পেরিয়ে এবার শুরু হচ্ছে শেষ আটের মহারণ। ইউরোপের ছয়টি, দক্ষিণ আমেরিকার একটি এবং আফ্রিকার একটি দল নিয়ে গড়ে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপ। চারটি ম্যাচেই রয়েছে ইতিহাস, প্রতিশোধ, তারকাদের লড়াই এবং সেমিফাইনালে ওঠার মর্যাদার লড়াই।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। তবে এবার দুই দলই অনেক বদলে গেছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের চ্যাম্পিয়ন মরক্কো আগের চেয়ে আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী। কানাডাকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠা দলটির আক্রমণভাগ যেমন গতিময়, তেমনি রক্ষণও বেশ সংগঠিত। অন্যদিকে ফ্রান্সের দলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা ও মিডফিল্ডার মাইকেল অলিজে। তবে ফরাসিদের সবচেয়ে বড় ভরসা এখনও কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই। মরক্কো এখনও পর্যন্ত কখনও ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি।
আক্রমণ বনাম দুর্ভেদ্য রক্ষণ
দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। এই বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ইতোমধ্যেই ১৩ গোল করেছে, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের প্রমাণ। রোমেলু লুকাকু বদলি হিসেবে নেমেও নিয়মিত গোল করছেন। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডও গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখছেন।
তবে এবার তাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। স্পেন এখনও পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে একটি গোলও হজম করেনি। টানা ছয়টি ক্লিন শিট করে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে স্পেন শতভাগ সফল। ফলে বেলজিয়ামের দুরন্ত আক্রমণ নাকি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ—সেটিই হবে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ
কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের লড়াই। কারণ একটাই-হ্যারি কেন বনাম আর্লিং হালান্ড।
ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হালান্ড চার ম্যাচে সাত গোল করে ইতোমধ্যেই গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করার দুর্দান্ত রেকর্ডও গড়েছেন এই তারকা।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩ গোল করে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন কেন। তাই এই ম্যাচে দুই বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের মুখোমুখি লড়াই বাড়তি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
আর্জেন্টিনার সামনে সুইস পরীক্ষা
শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। কাগজে-কলমে ফেবারিট হলেও নকআউট পর্বে লিওনেল স্কালোনির দলের পথ মোটেও সহজ ছিল না। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দেকে হারাতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। এরপর শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে মুরাত ইয়াকিনের সুইজারল্যান্ডও দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি আরও একটি চমক দেখাতে মুখিয়ে আছে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়েও উত্তেজনা
শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও কোয়ার্টার ফাইনাল হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার ঠিক পেছনেই আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় শেষ আটের ম্যাচগুলো গোল্ডেন বুটের লড়াইকেও আরও জমিয়ে তুলবে।
সেমিফাইনালের পথে কঠিন পরীক্ষা
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচই আলাদা বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। কোথাও প্রতিশোধের লড়াই, কোথাও আক্রমণ ও রক্ষণের কৌশলগত যুদ্ধ, কোথাও আবার বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের দ্বৈরথ। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে চারটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ, যা নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চার দল।
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি (বাংলাদেশ সময়)
ফ্রান্স বনাম মরক্কো — শুক্রবার (১০ জুলাই), রাত ২:০০টা
স্পেন বনাম বেলজিয়াম — শনিবার (১১ জুলাই), রাত ১:০০টা
ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে — রবিবার (১২ জুলাই), রাত ৩:০০টা
আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড — রবিবার (১২ জুলাই), সকাল ৭:০০টা
২০২২-এর স্মৃতি, নতুন চ্যালেঞ্জ




