অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে সফরকারীদের ১০৪ রানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৫ বলে মাত্র ২ রান করেন তিনি। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ১৫ রান এবং অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৫১ রান। তবে এই জুটিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফেরান ফজলকে। ১১৩ বলে ১১টি চারসহ ৬৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই সালমান আগাকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ২৬ রান।
এরপর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এছাড়া মুমিনুল হক করেন ৫৬ রান। মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদও দলের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি ও নোমান আলি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করলে জবাবে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান।
ঐতিহাসিক এই জয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দেশ। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয়।




