ভিনিউজ : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে বিভিন্ন ইস্যু থাকতেই পারে। তবে সাধারণ মানুষ মূলত শান্তি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ চায়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে দুই দেশের অন্যান্য সম্পর্কও আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা ইস্যু থাকবে। তবে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনেক। তাদের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের বেশি কোনো পাওনা নেই। একদম মিনিমাম চায় ওরা। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে শান্তি।’ তার মতে, শান্তি থাকলেই সমৃদ্ধির পথ তৈরি হয়। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা উভয় দেশের দায়িত্ব।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, অর্থনীতি যখন রাজনীতির আগে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়। মানুষের কাছে যদি মনে হয় দুই দেশের সম্পর্ক তাদের জন্য কল্যাণকর, তাহলে রাজনৈতিক সম্পর্কও আরও সহজ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে তিনি দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পণ্য উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রশংসা করে ত্রিবেদী বলেন, ভারত বাংলাদেশকে জিপার, বোতাম, মেশিনারি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। এতে দুই দেশের শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পোশাক দেখে তিনি গর্ববোধ করেন বলেও জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা দূর করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, কয়েক দিন আগে ভারতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাবও এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে এবং তার দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ানোর ওপরই বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য শান্তি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরিকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন উভয় পক্ষ।




