যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর মাত্র ছয় দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি না হলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে আবারও আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো অগ্রগতি হতে পারে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধের কারণে দেশটির বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
যদিও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান, তবে আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আবারও পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারেন। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সেই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভ্যান্স। এছাড়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ওপরই আস্থা রাখছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও জটিল করে তুলেছে লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত। এ ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যস্থতা করবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা বিশ্বকে আরও অস্থির করে তুলছে। তিনি সকল পক্ষকে সংযম দেখিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।




