মোদির জন্মদিনে তারেক জিয়ার শুভেচ্ছা: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি বরফ গলতে শুরু করবে ?
জয়ন্ত আচার্য
সংবাদ বিশ্লেষণ
ভিনিউজ : কূটনীতিতে কখনো কখনো একটি শুভেচ্ছা বার্তাও বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং তার জবাবে মোদির প্রকাশ্য ধন্যবাদ-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় ঘটনাটি তাই নিছক সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখার সুযোগ কম।গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং একই রাতে মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করেছে? উত্তরটি এখনই নিশ্চিত করে দেওয়ার সময় আসেনি। তবে সম্পর্কের ভাষা যে বদলাচ্ছে, তার কিছু দৃশ্যমান ইঙ্গিত ইতোমধ্যে রয়েছে।
গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধ, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন দুই দেশের সম্পর্কে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।নির্বাচনের পর দুই দেশই পারস্পারিত সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে সাজানোর প্রয়োজনের কথা বলে আসছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশ অতীতের ১৫ বছর থেকে বেরিয়ে এসে সম্পর্ককে নতুন দিকে নিতে চায় এবং ‘রিসেট’ বা নতুনভাবে শুরু করার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতাও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক, বাণিজ্য ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা থেকে বোঝা যায়, দিল্লিও নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চাইছে। জুলাইয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যের কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে বাস্তবতা এখনো জটিল। ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ করেননি । ঢাকা বলেছে, তাকে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; অন্যদিকে ভারত বলেছে, তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়েই দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
তবু সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো ব্যক্তিগত সৌজন্যের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানো, স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট কার্যকর করা, যোগাযোগ ও জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্তে প্রাণহানি কমানো, পানি বণ্টন, মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা-স্বার্থ-এসব ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের প্রতিবেশী; ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি তাদের আলাদা করে রাখার সুযোগ দেয় না। অতীতের বিরোধ অস্বীকার না করেই যদি দুই দেশ ভবিষ্যতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যেতে পারে। মোদির জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা হয়তো সেই নতুন যাত্রার একটি ছোট কূটনৈতিক সংকেত। এখন দেখার বিষয়-এই সৌজন্য কতটা দ্রুত বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয়।
আরও ধারালো, রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী ভিনিউজ সম্পাদকীয় করে
৬০০–৭০০ শব্দে নিতে পারি, যেখানে শেখ হাসিনা-পর্ব, তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর, চীন-পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ ঢাকা-দিল্লি ।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক




