ভিনিউজ ডেস্ক : ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে রাতে রান্না করে রাখা খাবার পরদিন গরম করে শিশুকে খাওয়ান অনেক অভিভাবক। বিশেষ করে কর্মজীবী মা-বাবার কাছে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা রান্না করা খাবার বেশ সুবিধাজনক। তবে ফ্রিজে রাখা মানেই খাবার সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে খাবার সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, শিশুদের ফ্রিজে সংরক্ষণ করা খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। তবে খাবার কতক্ষণ বাইরে ছিল, কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরে কীভাবে গরম করা হচ্ছে-এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতার কারণেও খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। খাবার কিছুটা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে তা পরিষ্কার ও বায়ুনিরোধী পাত্রে ঢেকে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো। রান্না করা খাবার অনেকক্ষণ বাইরে থাকলে তাতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে। পরে ফ্রিজে রাখলেও সেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
শিশুকে খাবার দেওয়ার সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বের করা। যতটুকু শিশু খাবে, ততটুকুই আলাদা করে গরম করা উচিত। একবার ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করা খাবার আবার ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। বারবার খাবার গরম ও ঠান্ডা করার ফলে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং খাবারের গুণগত মানও কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া দিনের পর দিন একই খাবার ফ্রিজে রেখে শিশুকে খাওয়ানো উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ না করাই ভালো। খাবার গরম করার পর শিশুকে খাওয়ানোর আগে তাপমাত্রা পরীক্ষা করাও জরুরি। অতিরিক্ত গরম খাবার শিশুর মুখে দেওয়া যাবে না।
তাই সময়ের অভাবে ফ্রিজে রাখা খাবার শিশুকে খাওয়াতে হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দ্রুত সংরক্ষণ, প্রয়োজনমতো গরম করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়ানোর নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে ‘ফ্রিজে ছিল, তাই নিশ্চিন্ত’-এই ধারণার বদলে নিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।




