বিশ্বকাপ: ইতিহাস, রোমাঞ্চ আর ২০২৬-এর নতুন অধ্যায়

 

 

লেখক : আদিত্য আচার্য রুদ্র

বিশেষ প্রতিবেদন

ভিনিউজ : বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসর ফিফা বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। এরপর চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে আসরটি অনুষ্ঠিত হয়নি। গত প্রায় এক শতকে বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং কোটি মানুষের আবেগ, গৌরব ও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল, যারা পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। জার্মানি ও ইতালি চারবার করে, আর্জেন্টিনা তিনবার এবং ফ্রান্স ও উরুগুয়ে দুইবার করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ইংল্যান্ড ও স্পেনও একবার করে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে।

 

বিশ্বকাপের ফাইনাল বরাবরই ফুটবল ইতিহাসের সেরা নাটকীয় মুহূর্তগুলোর জন্ম দিয়েছে। ১৯৫০ সালে মারাকানায় উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের হার ‘মারাকানাজো’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ১৯৬৬ সালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জেতে। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে তাঁর ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও আলোচিত। ২০২২ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফাইনাল উপহার দেয়।

বিশ্বকাপ মানেই অবিস্মরণীয় ঘটনা। ১৯৫৮ সালে ১৭ বছর বয়সী পেলের আবির্ভাব, ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল, ১৯৯৮ সালে স্বাগতিক ফ্রান্সের প্রথম শিরোপা, ২০০২ সালে রোনালদোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ২০১০ সালে স্পেনের ‘টিকি-টাকা’ ফুটবলের জয় এবং ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭–১ গোলের বিধ্বংসী হার—সবই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্বকাপকে মহিমান্বিত করেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার। পেলে, ম্যারাডোনা, জোহান ক্রুইফ, ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ার, জিনেদিন জিদান, রোনালদো, রোনালদিনিও, মিরোস্লাভ ক্লোসে, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা বিশ্বকাপকে দিয়েছেন ভিন্ন মাত্রা। তাঁদের অসাধারণ নৈপুণ্য প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ফুটবলের প্রেমে মুগ্ধ করেছে।

এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। টুর্নামেন্ট এখন নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে ও ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। নরওয়ে ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগাল–স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা–মিশর এবং সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়ার ম্যাচগুলো থেকে বাকি চারটি কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হবে।

 

বিশ্বকাপের সৌন্দর্য এখানেই—প্রতিটি আসর নতুন নায়ক তৈরি করে, নতুন ইতিহাস লেখে এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন স্মৃতি রেখে যায়। ১৯৩০ সালের উরুগুয়ে থেকে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা—বিশ্বকাপের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা, যেখানে আবেগ, প্রতিভা ও ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা।

 

পূর্বের খবরআমির খানের জীবনের নতুন সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাট: সফল ব্যবসায়ী, বহুসাংস্কৃতিক পরিবার ও কোটি টাকার সম্পদের গল্প
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!