বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ প্রস্তাব: অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)।

এ লক্ষ্যে অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদীয়মান খাত নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে দুটি পৃথক ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিটুবি) টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে সিআইআই ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।

যেসব খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব

বৈঠকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতগুলোতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সিআইআইয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং ইনফ্রাভিশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি বিনায়ক চ্যাটার্জি বলেন, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ‘সানরাইজ সেক্টর’-এ দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—সেমিকন্ডাক্টর, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উচ্চগতির রেল, নিউক্লিয়ার পাওয়ার এবং সোলার সেল ও মডিউল উৎপাদন।

বিনায়ক চ্যাটার্জির মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এখন প্রচলিত ব্যবসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। ফলে এসব খাতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে।

বাড়াতে হবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য

সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বড় বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিটুবি যোগাযোগ জোরদারের কথা উল্লেখ করেন।

অশুল্ক বাধা দূর করার তাগিদ

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সিআইআইয়ের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দুই দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফজলুল হক বলেন, রাজনৈতিক বিষয়কে পাশে রেখে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা কীভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই ঘাটতি কমাতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে যৌথ উদ্যোগ

বৈঠকের আগে এফবিসিসিআই ও সিআইআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে থাকা বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার নীতিমালা নির্ধারণ করে; কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তব সমস্যাগুলো ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই এফবিসিসিআই ও সিআইআইয়ের মতো ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদল।

তাদের মতে, দেশে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা গেলে আমদানি কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বে সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদলটি দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। এতে ভারতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো, জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্বের খবরকলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, ৮ জনই বাংলাদেশি
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!