বগুড়া–৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটায় জেলার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) এর আওতায় রাখা হয়েছে।
উপনির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীরা সকালে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় শহরের শিববাটি হাসনা জাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ভোট দেন। এর আগে সকাল পৌনে আটটায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল শহরের সেউজগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, এটি উন্নয়নের নির্বাচন। উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেউজগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৬৪৯ জন। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানে ১৭০টি ভোট পড়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৫০টি কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানান, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। আসনটিতে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩৫টি বুথ রয়েছে, যার মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী।
জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। তাঁরা আজ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপি মনোনীত সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমান। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন করে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া দুই উপজেলায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আটটি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।




