দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: নতুন বিশ্বব্যবস্থার বার্তা

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: নতুন বিশ্বব্যবস্থার বার্তা

সংবাদ বিশ্লেষণ

ভিনিউজ : যুদ্ধ, বাণিজ্য সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণের মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তবে এবারের সম্মেলনকে শুধু ব্রিকসভুক্ত কয়েকটি দেশের নিয়মিত বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এমন এক সময়ে বিশ্বের প্রধান উদীয়মান শক্তিগুলোর এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্য নতুন সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে বিভক্ত করে রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে ভাগ করছে এবং দক্ষিণ এশিয়াও বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ফলে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনের আলোচনার প্রভাব শুধু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রতিধ্বনি শোনা যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক পরিসরেও।

সম্মেলনের প্রথম দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে সর্বসম্মত যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং সংলাপ, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ব্রিকসের ভেতরে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ভিন্ন কৌশলগত অবস্থানের দেশ থাকার পরও একটি অভিন্ন ভাষায় পৌঁছানো সহজ ছিল না। কিন্তু সেই ঐকমত্যের মধ্যেই ব্রিকসের নতুন বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। এটি এখন আর শুধু ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি অর্থনৈতিক ফোরাম নয়; সম্প্রসারিত ব্রিকস ক্রমশ এমন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় ও উদীয়মান শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ব্রিকসের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে এসে পড়ছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতেও পড়বে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রশ্নটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও প্রশ্ন। ব্রিকসের ‘সর্বোচ্চ সংযম’-এর আহ্বান তাই পরোক্ষভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সম্মেলনে বাণিজ্যকে ব্যাহত করে এমন একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশও বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক ধরনের নতুন মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-তারা কি শুধু পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার সমালোচনা করবে, নাকি বাস্তব বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে? নতুন উন্নয়ন ব্যাংক, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার এবং বিকল্প আর্থিক লেনদেনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা সেই বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষার অংশ। তবে এই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ব্রিকসের সদস্যদের নিজেদের মধ্যকার অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক মতভেদও কাটিয়ে উঠতে হবে।

এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাগুলোর একটি অবশ্যই নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্ক যে গভীর সংকটে পড়েছিল, তার পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দিল্লির বৈঠকে জিনপিং ভারত ও চীনকে একে অপরের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মোদীও পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে সীমান্ত বিরোধের বাস্তবতা এখনো রয়ে গেছে। ফলে ভারত-চীন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ মীমাংসা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার মধ্যে সহযোগিতার নতুন চেষ্টা বলা যেতে পারে।

এই ভারত-চীন সমীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ায়। কারণ গত এক দশকে এই অঞ্চল ক্রমশ ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং এমনকি ভুটানের চারপাশেও অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উপস্থিতি বেড়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার, অন্যদিকে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক প্রভাব ধরে রাখতে চায়। এই বাস্তবতায় দিল্লিতে মোদী-জিনপিং বৈঠক যদি সত্যিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার সূচনা করে, তবে তার সুফল দক্ষিণ এশিয়ার ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর জন্যও হতে পারে। কারণ বড় শক্তির প্রতিযোগিতা কমলে এসব দেশের সামনে একপক্ষকে বেছে নেওয়ার চাপও কমতে পারে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান অংশীদারদের একটি। একই সঙ্গে চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন ও অবকাঠামো সহযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ফলে ভারত-চীন সম্পর্ক যত বেশি সংঘাতমুক্ত ও স্থিতিশীল হবে, বাংলাদেশের জন্য দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা তত সহজ হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও একই ধরনের কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। ছোট দেশগুলোর জন্য বড় শক্তির দ্বন্দ্বের মধ্যে আটকে যাওয়ার পরিবর্তে বহুমুখী অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার সামনে একটি বড় বাস্তবতা হলো, এই অঞ্চলের নিজস্ব আঞ্চলিক সহযোগিতা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম বড় বাধা হয়ে আছে। ফলে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন একটি প্রশ্নও সামনে আনছে-দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কি নিজেদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে, নাকি বৃহত্তর শক্তিগুলোর নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন জোট ও ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল থাকবে? ব্রিকসের মতো বৃহত্তর মঞ্চে ভারত ও চীনের সহযোগিতা বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হবে না।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবি এই বৃহত্তর বিতর্কেরই অংশ। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। মোদী আগামী ২০ বছরের কথা মাথায় রেখে ব্রিকসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও নিয়ম প্রণয়নকে ভবিষ্যৎ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব কাঠামোতেও উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। এটি শুধু ভারতের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন নয়; এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতিও এবারের সম্মেলনের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ভারতের জন্য রাশিয়া দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগী, আবার ইরান মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখাও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনের অংশ। ফলে দিল্লি সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত কার্যত একটি বহুমুখী কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে-বিশ্ব যখন বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে, তখন নয়াদিল্লি কোনো একক শক্তির সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি আবদ্ধ করতে চায় না।

এই অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। অঞ্চলটির দেশগুলোও ক্রমশ বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা এখন অনেক দেশের কূটনীতির অংশ। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো, বড় শক্তির প্রতিযোগিতাকে কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুযোগে পরিণত করা যায়।

বর্তমানে ১১ সদস্যের ব্রিকস বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। সম্প্রসারণের ফলে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে অভ্যন্তরীণ মতভেদের সম্ভাবনাও। ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধ, বিভিন্ন সদস্যের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের সদস্যদের পারস্পরিক কৌশলগত হিসাব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানগত পার্থক্য-সব মিলিয়ে ব্রিকসের ঐক্য সব সময় সহজ হবে না। দিল্লি সম্মেলনের প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেখা হবে, এই জোট ঘোষণার বাইরে বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনে কতটা অগ্রসর হতে পারে।

নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলন তাই এক অর্থে নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বের একটি প্রতিচ্ছবি। এখানে একই মঞ্চে আছে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা, বন্ধুত্ব ও অবিশ্বাস, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব। ভারত ও চীনের হাত মেলানোর বার্তা যেমন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি সীমান্ত বিরোধ মনে করিয়ে দেয় সেই সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতাও। মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান যেমন শান্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তেমনি চলমান যুদ্ধ ব্রিকসের কূটনৈতিক সক্ষমতার পরীক্ষাও হয়ে উঠছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে-বড় শক্তির দ্বন্দ্বে পক্ষ নেওয়ার চেয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বহুমুখী সহযোগিতার পথ তৈরি করা। দিল্লির এই সম্মেলন হয়তো রাতারাতি নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করবে না, কিন্তু এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার একক আধিপত্যের যুগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়াকেও নিজের নতুন অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

পূর্বের খবর৯/১১ হামলার ঘটনা কখনো ভুলবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!