ভিনিউজ ডেস্ক : বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ইউরোপের মজুত রাখা ডিজেল বাজারে ছাড়তে চাপ দিচ্ছে অ্যামেরিকা। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো সহযোগিতা না করলে আমেরিকা ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো জরুরি আলোচনায় বসছে।
জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউরোপের মজুত থেকে আগামী ছয় মাসে প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সের হাতে থাকা মজুতই ইউরোপের মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ৩৫ শতাংশ। জার্মানির মজুত প্রায় ৫৬ লাখ টন এবং ফ্রান্সের প্রায় ৮২ লাখ টন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদেশগুলোকে সাধারণত অন্তত ৯০ দিনের নিট আমদানি অথবা ৬১ দিনের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের সমপরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখতে হয়।
আমেরিকা এই চাপের পেছনে রয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ ডিজেলের দামও। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অ্যামেরিকায় ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা সামান্য কমে ৬ দশমিক ৩৯ ডলারে নামে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার অ্যামেরিকা থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলেন। এর ফলে ইউরোপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জার্মানিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির অটোমোবাইল ক্লাব এডিএসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি মাস। সেপ্টেম্বরে জার্মানিতে ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি লিটার ২ দশমিক ৩৮৬ ইউরো। ১৭ সেপ্টেম্বর দাম উঠেছিল ২ দশমিক ৪৭১ ইউরোতে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে ইউরোপের নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতাও আগের তুলনায় কমেছে এবং অঞ্চলটি অ্যামেরিকার ডিজেল আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ফলে অ্যামেরিকার সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের জ্বালানি বাজারে আরও চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর কৌশলগত মজুত দ্রুত বাজারে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে নতুন সরবরাহ সংকটের সময় তাদের হাতে থাকা নিরাপত্তা মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই দুই দিক বিবেচনায় নিয়েই এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।




