‘ভিনিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে গত বছর টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হয়েছিলেন কিম কার্দাশিয়ান। কিন্তু তাঁর অভিনীত আইনি নাটক ‘অল’স ফেয়ার’ (All’s Fair) প্রথম মৌসুমেই সমালোচকদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে। কেউ অভিনয়কে বলেছেন কাঠের মতো নিষ্প্রাণ, আবার কেউ সিরিজটিকে আখ্যা দিয়েছেন ‘টেলিভিশনের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে নাটক’। অথচ সমালোচনার এই ঝড়ই শেষ পর্যন্ত সিরিজটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এবার সেই আলোচিত সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমে নিজের চরিত্র অ্যালুরা গ্রান্ট হয়ে ফিরে এসেছেন ৪৬ বছর বয়সী কিম।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম জানিয়েছেন, সমালোচনার মুখে পিছিয়ে না গিয়ে বরং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন এটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি বিষয় নিয়ে নির্মিত একটি নাটক। কিন্তু দর্শকেরা সিরিজটির মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন হাস্যরস, অদ্ভুত পোশাক, নাটকীয় সংলাপ এবং অতিরঞ্জিত অভিনয়ের এক অন্য রকম বিনোদন। তাই দ্বিতীয় মৌসুমে নির্মাতারা দর্শকের প্রতিক্রিয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। কিমের ভাষায়, ‘এখন আমরা পুরোপুরি একটি কমেডি।’
‘অল’স ফেয়ার’ নির্মাণ করেছেন ‘আমেরিকান হরর স্টোরি’ ও ‘গ্লি’খ্যাত মার্কিন নির্মাতা রায়ান মারফি। সিরিজটির গল্প মূলত কয়েকজন বিবাহবিচ্ছেদ বিষয়ক আইনজীবীকে ঘিরে। এতে কিমের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেত্রী গ্লেন ক্লোজ, সারাহ পলসন, নাওমি ওয়াটস এবং নিসি ন্যাশ-বেটস। প্রথম মৌসুমে অভিনয়ের দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও দর্শকের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। হুলুতে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শক পাওয়া চিত্রনাট্যনির্ভর সিরিজের প্রথম পর্বের রেকর্ড গড়ে এটি। জনপ্রিয়তার কারণে প্রথম মৌসুম প্রচারের পরপরই দ্বিতীয় মৌসুমের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সমালোচনা নিয়ে কিমের মনোভাবও বেশ দৃঢ়। তিনি মনে করেন, নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে থেমে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। তাঁর বক্তব্য, সমালোচনার মুখে পড়লে সামনে এগিয়ে যাওয়াই একমাত্র পথ। মাথা নিচু করে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা কিম নিজের এই মানসিকতার প্রমাণ আগেও দিয়েছেন। একসময় মেট গালার আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়ে তাঁকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। আবার নিজের প্রসাধনী ও পোশাকের ব্যবসা নিয়েও সমালোচনা সামলে প্রতিষ্ঠানকে বিলিয়ন ডলারের ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ডিগ্রি ছাড়াই আইন পেশায় প্রবেশের বিকল্প শিক্ষানবিশি কর্মসূচিতে ছয় বছর পড়াশোনা করেছেন তিনি। তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন। তাঁর কথায়, কোনো বিষয়ে সফল না হলে আবার চেষ্টা করবেন। এবার আইন পড়াশোনার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আইনি পরামর্শ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পড়াশোনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
দ্বিতীয় মৌসুমে কিমের অভিনয়ে উন্নতির কথাও জানিয়েছেন সহশিল্পী নাওমি ওয়াটস। তাঁর মতে, নতুন মৌসুমে কিম আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক সংলাপ ও অভিনয়ে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। ওয়াটসের ভাষায়, কিমের অভিনয় এখন উন্নতির পথে।
সিরিজটির আরেকটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে কর্মজীবী নারীর বহুমাত্রিক জীবনচিত্র। একজন নারী একই সঙ্গে মেধাবী, সফল, ফ্যাশনসচেতন ও সৌন্দর্যপ্রিয় হতে পারেন, এই বাস্তবতাই তুলে ধরতে চেয়েছে ‘অল’স ফেয়ার’। কিমের মতে, তাঁর পরিচিত অনেক নারীর জীবনেই এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতিফলন রয়েছে।
সমালোচনার মুখে যে সিরিজ একসময় হাসির খোরাক হয়েছিল, সেই সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমে ফিরে এসে কিম কার্দাশিয়ান যেন নিজের পুরোনো দর্শনই আবার তুলে ধরলেন, সমালোচনা নয়, শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই সাফল্যের পথ তৈরি করে ।




