জন্ম দিনে প্রসেনজিৎ : রানি যেন সারা জীবন মহরানী হয়ে থাকে

 

ভিনিউজ ডেস্ক : ‘জানকি কুটীর’-এ প্রথম দেখেছিলাম ছোট্ট রানিকে। একেবারে পুতুলের মতো দেখতে ছিল। তখন ওর বয়স দুই-আড়াই বছর হবে। আমার বাবা মানে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাম মুখোপাধ্যায় (রানির বাবা) এবং ইন্ডাস্ট্রির বেশ কয়েক জন বন্ধু মিলে সপ্তাহের শেষে আড্ডা দিতে বসতেন। সেখানে কখনও কখনও আমরাও যেতাম। সেই সূত্রেই ওঁদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ছুটি পেলে যখন রানিরা কলকাতায় আসত, তখন সময় পেলে আমাদের বাড়িতেও ঘুরে যেত। রানির দাদা রাজা তখন কিছুটা বড়। আমার বাড়িটা ছিল ওদের ‘ডেন’। সবাই মিলে লুকোচুরি খেলত ওরা। ওদের তো চোখের সামনে বড় হতে দেখলাম।

একটা মজার ঘটনা কিছুদিন আগে বলেছিলাম, ও আমায় ছোট থেকেই ‘বুম্বজ়’ বলে ডাকে। ছোট্টবেলায় আমার বাড়িতে এলে ও আমার মাকে বলত, ‘আমি বুম্বজ়কে বিয়ে করব’। মা বলতেন, ‘তুই যখন বড় হবি, বুম্বজ় তো বুড়ো হয়ে যাবে’! তখন স্পষ্ট জবাব দিত। সেই উত্তর এখনও বলতে গেলে আমার হাসি পায়। ও বলত, ‘গোদরেজ লাগা দেনা’। মানে আমি বুড়ো হয়ে গেলে আমার মাথার পাকাচুলে নাকি কালো র‌ং করে নেবে।

আমার আর দেবশ্রীর বিয়ের সময়ে রানির সম্ভবত ১৫ বছর বয়স। তখন আবার সম্পর্কে আমি ওর মেসো। এক দিন রামদা এসে বললেন ‘বিয়ের ফুল’ ছবির কথা। তার পরে জানতে পারলাম, ওই ছবিতে রানিই আমার নায়িকা। কেউ কেউ জানেন, আবার অনেকেই জানেন না— এই বাংলা ছবি দিয়েই ওর অভিনয়জগতে পা রাখা। রানির প্রথম ছবি। শুরু হল শুটিং। সেই ছবির শুটিং ফ্লোরে সারা ক্ষণ মজা হত। বিশেষ করে প্রেমের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়ে। ওর বাবা, মানে রামদা, তো বছর আঠারোর মেয়েকে ‘রোমান্টিক’ দৃশ্য বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আমার কাঁধে দায়িত্ব এল। আমি যেন রানিকে বোঝাই , কী ভাবে প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করবে।

 

তার পরেই তো হিন্দিতে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ ছবিতে অভিনয় করে। এর পর একে একে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করে ও। ‘গুলাম’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’— সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তখন রানি এগিয়ে চলছে। অভিনেত্রী রানির নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে ওর অভিনয় আমার মনে আজও গেঁথে রয়েছে। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরেও কথা হয়েছে রানির সঙ্গে। ওর মেয়ে হওয়ার পরেও দেখা হয়েছিল। ছোট্ট রানি এখন বড় হয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও ও মানুষটা একই আছে।

রানিকে আমি মানুষ হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখব। পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে ভালবাসে, সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। কিছু দিন আগে রানির মা মানে কৃষ্ণাদির ৭৫ বছরের জন্মদিনের উদ্‌যাপনেও গিয়েছিলাম। সেখানেও একই ভাবে দেখেছি ওকে। কিছু দিন আগে কলকাতাতেও একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল। আমাকে দেখতে পেয়েই আগে এসে প্রণাম করল। আমিও সেই একই ভাবে কাছে টেনে নিলাম। আমি এখনও ভাবতেই পারি না যে, রানি বড় হয়ে গিয়েছে। এখনও মনে হয়, সেই ছোট রানিই আছে বুঝি! ওর জীবনে সাফল্য এসেছে ঠিকই। কিন্তু, মানুষটার এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। পরস্পরের কাজ নিয়েও কথাবার্তা হয়। অনেকটা সময় আমরা হয়তো পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু সমীকরণে কোনও বদল আসেনি। আমি এখনও সেই ওর বুম্বজ়। ও আমার ছোট্ট পুতুল।

 

 

আসলে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক তো শুধু এক সময় আমার নায়িকা হয়েছে, সেই হিসাবেই নয়। আমি যে প্রান্তেই থাকি না কেন, ওর প্রায় সব ছবি দেখার চেষ্টা করি। দেখে আমার প্রতিক্রিয়াও জানাই। কেমন লাগল, মেসেজ করলে সঙ্গে সঙ্গে আসে উত্তরও। ২১ মার্চ রানির জন্মদিন। ওকে অনেক শুভেচ্ছা, ভালবাসা, আশীর্বাদ জানাই। সেই ফ্রক পরা ছোট্ট পুতুল সারা জীবন ‘মহারানি’র মতোই থাকুক। মাথা উঁচু করে বাঁচুক। অভিনেত্রী রানি আরও বড় হোক। আর ওর মধ্যে যে সুন্দর একটি মানুষ রয়েছে, তাকে বাঁচিয়ে রাখুক।

-আনন্দ বাজার

পূর্বের খবরঈদের পর নতুন সরকারের সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জ: দৃঢ় পরিকল্পনাই হতে পারে উত্তরণের পথ
পরবর্তি খবরসত্তরের দশকের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব: আইইএ প্রধান
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!