ভিনিউজ : ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবেশ করেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন জোটের নেতাকর্মীরা।
লংমার্চের গাড়িবহরটি কুমিল্লার দাউদকান্দি হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবেশ করে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন এবং পথসভা করেন। লংমার্চের যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সিমরাইল, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে বলেন, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই তারা মাঠে নেমেছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েছেন। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেশের মানুষের দুর্ভোগ দূর করা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধের দাবিও রয়েছে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। জোটের নেতারা জানান, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির শেষ গন্তব্য চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দান। লংমার্চের গাড়িবহরটি বিকেল ৪টার মধ্যে মিরসরাইয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দানে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন বলেন, জোটের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছেন। লংমার্চের গাড়িবহর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে তারা আশা করছেন।
নারায়ণগঞ্জের পথসভায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুউদ্দিন আহমাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জোটের নেতাদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান জনদুর্ভোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে লংমার্চকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ার কারণে সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দানে বড় ধরনের সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




