ভিনিউজ ডেস্ক : নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের দামে ভর্তুকির দাবিতে ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দুই দফা আন্দোলন হয় কাশ্মীরে। বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মিলে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। আন্দোলনকারীরা বারবার আলটিমেটাম দিলেও সরকার তা কানে তুলছে না।
আন্দোলনকারীদের ৩৮ দফার মধ্যে আটা-ময়দাসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি, ভিআইপিদের প্রটোকল বাতিলের মতো দাবি রয়েছে। তবে আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের মূল দাবি হলো, বিধানসভায় কাশ্মীরের বাইরে থাকা কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিল।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সংরক্ষিত আসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং ইচ্ছামতো ছড়ি ঘোরায়।
পাকিস্তান সরকার দাবি মানার বদলে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। দমননীতির পাশাপাশি অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে সরকার যত দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, আন্দোলন তত তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজপথে আজাদির দাবি উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ভারতকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর সুবিধার্থে তারা পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা খুলে দেওয়ারও দাবি জানান।
এদিকে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে চলমান আন্দোলনে সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে চলমান এই বিক্ষোভ মূলত পাকিস্তানের কয়েক দশক ধরে চালানো পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলোতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি ফলাফল।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা, পুলিশের বর্বরতা এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের জন্য পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ’স্থানীয় জনগণের বৈধ ক্ষোভ বা দাবিগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে, পাকিস্তান রাষ্ট্র অত্যন্ত নির্মম পুলিশি বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে, যার শিকার হয়েছে নিরীহ নারী ও শিশুরাও। ভারত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কাশ্মিরীরা ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ওই অঞ্চলের দ্রুত অবনতিশীল মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বেসামরিক এলাকাগুলো থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সাথে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।




