বিশেষ বিনোদন প্রতিবেদন
ভিনিউজ ডেস্ক: বলিউডের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যেমন দর্শকের নজর কাড়ে, তেমনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি দীর্ঘদিনের। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রচার, প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫৩তম জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বিপুল সম্পদের হিসাব। বিভিন্ন ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এই বিশ্বসুন্দরীর আনুমানিক সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে সম্পদের এই হিসাব নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সেলিব্রিটি নেট ওর্থ’ ঐশ্বর্যার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে। ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ ও ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ও ১ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই হিসাব তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ‘জুম টিভি’সহ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭৭৬ কোটি থেকে ৯০০ কোটি রুপির মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব এক নয়। উল্লেখ্য, এগুলো তৃতীয় পক্ষের অনুমান; ঐশ্বর্যা নিজে তাঁর সম্পদের নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ করেননি।

১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ঐশ্বর্যা। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নমের ‘ইরুভার’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু। এরপর ‘হাম দিল দে চুকে সনম’, ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘ধুম ২’, ‘গুরু’ এবং ‘জোধা আকবর’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ভারতীয় সিনেমার পাশাপাশি হলিউডেও কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর আয়ের অন্যতম বড় উৎস আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন। প্রসাধনসামগ্রী প্রস্তুতকারী ফরাসি প্রতিষ্ঠান লরিয়াল প্যারিসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রচারণায় ভারতীয় মুখ হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লংজিনের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত রয়েছেন ঐশ্বর্যা। ২০১৯ সালে ‘এক্সচেঞ্জ৪মিডিয়া’ তাঁর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেছিল। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ তাঁর বিশ্বব্যাপী পরিচিতি আরও বাড়িয়েছে।
সম্পদের আলোচনায় আসে বচ্চন পরিবারের আবাসন ও বিনিয়োগও। ২০০৮ সালে ‘গালফ নিউজ’ ও সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ঐশ্বর্যা ও অভিষেক দুবাইয়ের জুমেইরাহ গলফ এস্টেটের স্যাংচুয়ারি ফলস আবাসন প্রকল্পে একটি ভিলা কিনেছিলেন। প্রকল্পটির ভিলাগুলোর তৎকালীন দাম ছিল ১৫ থেকে ৩৫ মিলিয়ন দিরহাম। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট বাড়িটির ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ওই বাড়ির মূল্য প্রায় ১৬ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বইয়েও বচ্চন পরিবারের একাধিক আবাসন ও সম্পত্তির খবর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

ঐশ্বর্যার স্বামী অভিষেক বচ্চনও অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ব্যবসায় যুক্ত। তবে দুজনের সম্পদ এবং বচ্চন পরিবারের সম্মিলিত সম্পত্তিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। ব্যক্তিগত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে না থাকায় তাঁর প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
সবশেষে, ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া মণি রত্নমের ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’ ছবিতে নন্দিনী ও মন্দাকিনী দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বর্যা। নতুন ছবিতে তাঁকে কবে দেখা যাবে, তা নিয়ে অনুরাগীদের অপেক্ষা রয়েছে। তবে পর্দার বাইরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক, বিজ্ঞাপন ও দীর্ঘদিনের তারকাখ্যাতি তাঁকে এখনো বিনোদনজগতের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে ধরে রেখেছে।
-তথ্যসূত্র: ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’, ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’, ‘সেলিব্রিটি নেট ওর্থ’, ‘জুম টিভি’, ‘গালফ নিউজ’, ‘রেডিফ’ এবং ‘এক্সচেঞ্জ৪মিডিয়া’




