ভিনিউজ ডেস্ক নারীর ক্ষমতায়ন হলো নারীদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের সমকক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের এই লড়াইটা আজকের নয়, দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। তবে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাধারা ও সামাজিকতায়ও পরিবর্তন এসেছে। ফলে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘ট্যাবু’ দূর হয়েছে মানুষের মন থেকে। বর্তমান দিনে নারী-পুরুষ উভয়ই সব কিছুতেই সমান অধিকার গ্রহণ করেন। তবে হ্যাঁ, কিছু জায়গায় বা কিছু ক্ষেত্রে এখনও হয়ত খামতি থেকে গেছে। কিন্তু তাও পরিবর্তনশীল। আর এর মাঝে মহিলাদের কাজ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে সুইডেনের মন্ত্রী এমন এক কাজ করেছেন, যা ইতিমধ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা লুক্সেমবার্গে জলবায়ু পরিবর্তন নীতি নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। এখানেই সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি তাঁর মাত্র তিন মাসের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। যে সময়ে মহিলারা মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে নিজের এবং সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান, সেই সময়ে এমন এক সিদ্ধান্ত অবাক করেছে সকালে। এমন অবস্থায় দেশের জন্য সন্তানকে নিয়ে বৈঠকে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্তকে বাহবা জানিয়েছেন বিশ্বের বহু প্রান্তের মানুষ। ইইউ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সন্তান নিয়ে বৈঠকে উপস্থিতির ঘটনা এবারই প্রথম, আগে এমন ঘটেনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। এর পেছনে একটি কারণও ছিল। তিনি মানুষদের কাছে দেখাতে চেয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি নীতির সুবিধাগুলো তুলে ধরে বোঝাতে চেয়েছেন যে, নারীদের কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করে না। তিনি বলেন, কাজ এবং পরিবার- দুটিই একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একজন ভালো জীবনসঙ্গী, যিনি দায়িত্ব ভাগ করে নিতে আগ্রহী এবং আধুনিক মানসিকতার।
২০২২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন রোমিনা পোরমোখতারি। রোমিনাই এই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি মন্ত্রী। নিজে কাজে ফিরলেও তাঁর স্বামী এখনও পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনের নির্বাচন পর্যন্ত সন্তানকে দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন নিজের কাঁধে। বৈঠকের সময় আদামের দেখাশোনার জন্য তিনিও রোমিনার সঙ্গে লুক্সেমবার্গে আসেন।
-এপিবি আনন্দ




