ভিনিউজ ডেস্ক : ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সন্ধ্যায় নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মোদী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার শঙ্কার মধ্যেই এই ফোনালাপ হলো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মোদী আরও বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আলোচনায় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে মোদী-ট্রাম্পের এই ফোনালাপকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশেষ করে বাণিজ্যচুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক-এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


