মৃত্যুদণ্ডের ইনজেকশন নিয়েও বেঁচে গেলেন ক্রিস্টা পাইক, এখন কী হবে

 

ভিনিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় এক সপ্তাহ পর হাসপাতালের বিছানায় জ্ঞান ফিরেছে তার। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পাইক এখন সচেতন এবং কথা বলছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে তার শারীরিক ও স্নায়বিক অবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। ১৯৯৬ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসিতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারিত ছিল। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে সাজা কার্যকরের অনুমতি দিলে সংশোধনাগারে প্রক্রিয়া শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষ পাইকের শরীরে পেন্টোবার্বিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করে। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবে তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি। বরং আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার শরীরে অন্তত সাতবার সূঁচ ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাকে কাঁদতে, গোঙাতে ও জোরে শ্বাস নিতে শোনা যায় বলেও তারা আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করেছেন।

পাইকের আইনজীবীদের অভিযোগ, তার শিরায় ঠিকভাবে আইভি লাইন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রাণঘাতী ওষুধের একটি অংশ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার একটি হাত বেগুনি হয়ে যায় এবং পরে ইনজেকশনের স্থানগুলোতে জ্বালাপোড়া ও ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দেয়।

এরপর পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন তাকে অচেতন অবস্থায় রাখা হয়, শ্বাসনালিতে নল দেওয়া হয় এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তা নিতে হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে পেন্টোবার্বিটাল দূর করার চেষ্টা করেন। তবে মঙ্গলবার তার আইনজীবীরা জানান, সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে পাইকের জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন।

ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক গবেষক ডেবোরা ডেনো ঘটনাটিকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে কয়েকজন বন্দি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে গেলেও তাদের শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। পাইকের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও তিনি বেঁচে গেছেন যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ড. জোয়েল জিভোটের মতে, পেন্টোবার্বিটাল যথেষ্ট পরিমাণে রক্তপ্রবাহে পৌঁছালে পাইকের বেঁচে থাকার কথা ছিল না। তার ধারণা, শিরা ফেটে যাওয়ার কারণে ওষুধটি সম্ভবত রক্তে না গিয়ে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। পাইকের রক্ত জমাট বাঁধার একটি শারীরিক সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি রাজ্যে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং ঘটনার স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে টেনেসি সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

পাইকের আইনজীবীরা ইতোমধ্যে তার সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ব্যবহৃত সব প্রমাণ সংরক্ষণেরও দাবি জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে আদালত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলের ওপরই নির্ভর করবে পাইকের ভবিষ্যৎ।

পাইক তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে কলিন স্লেমারকে হত্যা করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে শিপের ভূমিকা থাকলেও ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি; তাকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শিপ এখনো কারাগারে রয়েছেন।

ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা শুধু একটি ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, বন্দির অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

-বিবিসি অবলম্বনে

পূর্বের খবরদরজা পেরোলেই ভুলে যান কী করতে এসেছিলেন : নেপথ্যে মস্তিষ্ক-নতুন পরিবেশ
পরবর্তি খবরদেশের হয়ে শেষ ম্যাচে গোল করে, করিয়ে কাঁদলেন মেসি
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!