বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিশ্ব, বাড়ছে কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষা
আদিত্য রুদ্র
বিশেষ প্রতিবেদন
ভিনিউজ : বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ আসর ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষা। আগামী ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এবারের আসর নানা দিক থেকেই ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬–কে ঘিরে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন ২০২৬ পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর রাজধানী শহরের ঐতিহ্যবাহী অ্যাস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। আর এক মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়াম মাঠে। উদ্বোধন থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই থাকবে বাড়তি উত্তেজনা, আবেগ ও প্রত্যাশা।
এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। তিন দেশের মোট ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। আয়োজক দেশগুলো ইতোমধ্যে খেলার মাঠ আধুনিকীকরণ, দর্শকদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ করেছে। মাঠগুলোতে বসানো হচ্ছে সর্বাধুনিক আলোকসজ্জা, ভিডিও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং উন্নত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। আয়োজকদের দাবি, দর্শকসেবা ও নিরাপত্তার দিক থেকে এটিই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের টিকিট নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ আসনের টিকিটের মূল্য তুলনামূলক কম রাখা হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, শেষ ষোল, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শকেরা ইতোমধ্যেই নিবন্ধন শুরু করেছেন। অনেকেই এখন থেকেই ভ্রমণ, আবাসন ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণ করবে বিশ্বের ৪৮টি দেশ। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে শক্তিশালী দলগুলো বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিচ্ছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, আফ্রিকার মরক্কো, সেনেগালসহ আরও বহু দেশ অংশ নেবে এবারের আসরে।
ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় অন্যতম বিষয় ছিল এশিয়ার শক্তিশালী দল ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না। ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, বাছাইপর্বে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ইরান মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই শক্তিশালী দলটিকে এবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমন্বয়ের কারণে ইরান এবারের আসরে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশ অনুশীলন শিবির আয়োজন করছে, প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দক্ষতা আরও শাণিত করছে। দল নির্বাচন, আক্রমণভাগ, রক্ষণভাগ এবং মধ্যমাঠের ভারসাম্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোচ ও কর্মকর্তারা। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল গঠনের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে আয়োজক দেশগুলো বিদেশি দর্শকদের জন্য সহজ ভ্রমণ সুবিধা, দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া, বহুভাষিক সহায়তা কেন্দ্র, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬–কে ঘিরে উত্তেজনা। নতুন দেশ, নতুন ইতিহাস, নতুন সম্ভাবনা এবং বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।




