দিনের বেলায় রাস্তাঘাট, বাজার, গণপরিবহন ও কর্মস্থলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়। এছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকাল রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ভোগাচ্ছে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ। ফলে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও অনুভূত তাপমাত্রা আরো বেশি মনে হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ছাতা, ক্যাপ কিংবা পানির বোতল সঙ্গে রাখছেন। দুপুরের দিকে সড়কে মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম ছিল। গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে। আগামী সপ্তাহের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।




