বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদ্বেগ

আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও শক্তি এখনও অপরিবর্তিত আছে। এর ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা ‘একিউআইএস’ একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তারা বৃহৎ ইউনিটের পরিবর্তে ছোট বা বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশেও তাদের সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ এর এক প্রতিবেদনে ওই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়। এ প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

একিউআইএস এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে স্যাংশনস মনিটরিং টিম। তারা লিখেছে, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপি-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী। এর মধ্যে গত ৯ মে’র একটি ঘটনা অন্যতম। সেদিন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকভর্তি যান বিস্ফোরণ হয়। এতে নিহত হন ২১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তাজকিরা (তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, তালেবান ও একিউআইএস-এর মধ্যে সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বহাল আছে। তালেবান সরকার ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ, এই সংঘাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যা এই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

পূর্বের খবররাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিশেষাধিকার নোটিশ, ২৮ আগস্টের মধ্যে জবাব চেয়েছে লোকসভা
পরবর্তি খবরমার্কিন অবরোধের মধ্যেই খারগ দ্বীপে তেল উত্তোলন শুরু ইরানের
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!