ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার প্রার্থিতা স্থগিতের ঘটনায় নির্বাচনি প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
আরিফুর রহমানের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারে থাকার সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাখ্যাতীত।
গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান দোলনের প্রার্থিতা স্থগিত ঘোষণা করেন। জোনায়েদ হোসেন নামে ওই আসনের এক ভোটারের করা লিভ টু আপিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে জোনায়েদ হোসেন দাবি করেন, আরিফুর রহমান দোলন কৃষক লীগের সহসভাপতি এবং একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা নেই।
তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কৃষক লীগের সর্বশেষ ঘোষিত কোনও কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কমিটিতে আরিফুর রহমান দোলনের নাম নেই।
আইনজীবীরা বলছেন, যে গেজেটের দোহাই দিয়ে আরিফুর রহমান দোলনের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে একটি সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তিকে নয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিষিদ্ধ না হলে তার প্রার্থী হওয়ার অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিক না হলে এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন না করলে কোনও প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত করার আইনগত ভিত্তি নেই। ব্যক্তি নিষিদ্ধ না হলে তিনি শতভাগ বৈধ প্রার্থী।’
আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দীন অসীম বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বৈধ স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি কোনও নিষিদ্ধ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন না। তার প্রার্থিতা স্থগিত পুরো নির্বাচনকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।’
আইনজীবীদের মতে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) কোথাও বলা নেই যে, আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনও নেতা বা কর্মী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আরপিওতে প্রার্থিতার অযোগ্যতার কারণ হিসেবে মূলত ঋণখেলাপি হওয়া, দ্বৈত নাগরিকত্ব, আদালতে দণ্ডিত হওয়া কিংবা নির্দিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ আছে।
আরিফুর রহমান দোলনের অনুসারীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন আরও কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও তাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান দোলনের জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
আরিফুর রহমান দোলন এই সিদ্ধান্তকে পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করতে লিখিত কপি প্রয়োজন। কিন্তু সেটিও এখন আমাকে দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য পুরো ছকটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে।’




