ভিনিউজ : ফ্রান্সজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, ফলে হাজারো পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাতের আগে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও ফ্রান্স জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার ফ্রান্স ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোর একটি পার করেছে। সেদিন দেশের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণ-পশ্চিমের লঁদ অঞ্চলের পিসোস শহরে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
শুধু দিনই নয়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়টিও ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ওই সময়ে দেশের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপজ্জনক আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশেও বিরল ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে, যেখানে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। জার্মানিতে সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে। পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরিতেও তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বর্তমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
বুধবার আরও চারটি অঞ্চলকে রেড অ্যালার্টের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে এখন মোট ৫৮টি অঞ্চল সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এছাড়া ৩১টি অঞ্চল কমলা সতর্কতার আওতায় রয়েছে।
রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি সপ্তাহান্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোর্দো শহরে টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। শহরটির আগের রেকর্ড ছিল ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৫ সালের আগস্টে রেকর্ড করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে ইতোমধ্যে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি পৌঁছেছে।
তবে শুক্রবার থেকে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে এর সঙ্গে বজ্রঝড়, আকস্মিক বন্যা এবং বড় আকারের শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিও রয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র এই তাপপ্রবাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যে মেইন-এ-লোয়ার অঞ্চলের একটি বনাঞ্চলে বড় ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫০ জনের বেশি দমকলকর্মী কাজ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইউরোপজুড়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে




