জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা: লিটারে ১৫–২০ টাকা বৃদ্ধি, বাড়বে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের খরচ

 

ভিনিউজ : দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করেছে সরকার, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে পরিবহন, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন দাম  রোববার থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ১০০ টাকা—অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকায়, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হবে। অকটেনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক, লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়া বৃদ্ধিতে। ফলে যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
কৃষি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের বাজারেও পড়তে পারে, যা সাধারণ ভোক্তার জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।

পূর্বের খবরগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাদক বিরোধী সমাবেশ
পরবর্তি খবরএকাকিত্বের অনুভূতি হৃদ্‌রোগের কারণ হতে পারে? পরস্পর বিচ্ছিন্নতা ক্ষতি করছে হৃদ্‌যন্ত্রেরও, দাবি গবেষণায়