কেমন হবে তারকাদের বিশ্বকাপ?

 

ভিনিউজ : বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসর। তবে মাঠে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন কয়েকজন মহাতারকার দিকে। ফর্ম, ফিটনেস, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার বিশাল চাপ নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মাতাতে প্রস্তুত তারকারা -কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালন্ড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, হ্যারি কেইন ও লামিন ইয়ামাল। তাদের পারফরম্যান্সই অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে বিশ্বকাপের ভাগ্য।

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় নাম। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। ২০১৮ সালে কিশোর বয়সে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আরও বড় তারকায় পরিণত হন। এখন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে এমবাপ্পের প্রয়োজন মাত্র চারটি গোল। যদিও রিয়াল মাদ্রিদে তার প্রথম মৌসুমটা পুরোপুরি সুখকর ছিল না। গোল করলেও বড় শিরোপা জিততে পারেননি, সঙ্গে ছিল চোটের সমস্যাও। তবু আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমবাপ্পে বরাবরই অন্যরকম ভয়ংকর।

অন্যদিকে নরওয়ের আর্লিং হ্যালন্ডের জন্য এটি হতে যাচ্ছে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। প্রায় তিন দশক পর নরওয়েকে বিশ্বকাপে তুলে আনার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তারই। বাছাইপর্বে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে ইতালির বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। দেশের হয়ে মাত্র ৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। তবে বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করাই হবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্রাজিলের স্বপ্ন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর। নেইমার ফিরে এলেও দলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সফল হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে এখনও প্রত্যাশামতো জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি। গত বিশ্বকাপে করেছিলেন মাত্র একটি গোল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নিজের গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণভাগের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তিনি ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিতে পারেন—এমন বিশ্বাসই এখন সমর্থকদের। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও এগিয়ে দিতে পারে।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জন্য এবারের বিশ্বকাপ সম্ভবত শেষ বড় সুযোগ। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার ব্যক্তিগত অর্জনের ঘাটতি নেই, কিন্তু আন্তর্জাতিক শিরোপা এখনও অধরা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে তিনি বিশ্বকাপে আসছেন দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। অতীতে বড় টুর্নামেন্টের আগে চোট ও ক্লান্তি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেললেও এবার তুলনামূলক সতেজ অবস্থায় আছেন তিনি। ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর দায়িত্বও অনেকটাই তার কাঁধে।

সবশেষে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইউরোপ মাতানো এই স্প্যানিশ বিস্ময়বালক এখন চোটের সঙ্গে লড়ছেন। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। তবু স্পেন আশা করছে নকআউট পর্বের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন ইয়ামাল। তার সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার ক্ষমতা স্পেনকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপ তাই শুধু দলগত লড়াই নয়, এই পাঁচ মহাতারকার ব্যক্তিগত মহাকাব্যও হয়ে উঠতে পারে।

পূর্বের খবরযমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রডবোঝাই ট্রাক উলটে নিহত ১৫
পরবর্তি খবরআজ থেকে ঈদের ৭দিনের লম্বা ছুটি : শুরু হয়েছে ঘরে ফেরা