ওয়েস্ট উইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিতে ভারত

 

 

ভিনিউজ : সবার মিলিত অবদানে দুইশ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ গড়লেও, পেরে উঠল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাঞ্জু স্যামসনের চমৎকার ইনিংস এবং অন্যদের ছোটখাট অবদানে বড় লক্ষ্য ছুঁয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত।

কলকাতায় কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনালে পরিণত হওয়া লড়াইয়ে ৫ উইকেটে জিতেছে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৫ রান ৪ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে তারা। আগের দিন কলকাতায় প্রথম সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।ভারতের জয়ের নায়ক স্যামসন অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। তার ৫০ বলের দুর্দান্ত ইনিংসটি গড়া চার ছক্কা ও ১২ চারে।

ইডেন গার্ডেন্সে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এক প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রোস্টন চেইস। আরেক প্রান্তে সাবধানী ছিলেন শেই হোপ।

নবম ওভারে ভাঙে ক্যারিবিয়ানদের ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৩৩ বলে এক ছক্কা ও তিন চারে ৩২ রানের মন্থর ইনিংস খেলে ফেরেন অধিনায়ক হোপ।

ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন শিমরন হেটমায়ার। মাত্র ১৬ বলে চেইসের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৪ রান।

দ্বাদশ ওভারে তিন বলের মধ্যে দুই ব্যাটসম্যানকেই বিদায় করেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

১২ বলে ২৭ রান করা হেটমায়ার হন কটবিহাইন্ড। আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। আল্ট্রা এজে মৃদু স্পাইক থাকায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার। এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি হেটমায়ার, মাঠের বাইরে অসন্তুষ্ট দেখায় কোচ ড্যারেন স্যামিকেও।

দুই বল পর বুমরাহর স্লোয়ারে আগেভাগে শট খেলে ধরা পড়েন চেইস। ২৫ বলে এক ছক্কা ও পাঁচ চারে তিনি করেন ৪০ রান।

শেরফেন রাদারফোর্ডের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে দ্রুত রান তোলেন পাওয়েল ও হোল্ডার।

৩৫ বলে তারা গড়েন ৭৬ রানের জুটি। ২২ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৩৭ রান করেন হোল্ডার। দুই ছক্কা ও তিন চারে ১৯ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন পাওয়েল।

৩৬ রানে ২ উইকেট নেন বুমরাহ। একটি করে উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া ও ভারুন চক্রবর্তী।

রান তাড়ায় এক প্রান্তে ঝড় তোলেন স্যামসন। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী আভিশেক শার্মা বিদায় নেন দুই অঙ্ক ছুঁয়ে। একই পরিণতি হয় টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান ইশান কিষাণের।

তৃতীয় উইকেটে স্যামসনকে কিছুটা সঙ্গ দেন সুরিয়াকুমার। দশম ওভারে আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলে তাকে ফিরিয়ে ৫৮ রানের জুটি ভাঙেন শামার জোসেফ। ১৮ রান করতে ভারত অধিনায়ক খেলেন ১৬ বল।

ক্রিজে গিয়েই ঝড় তোলেন তিলাক ভার্মা। ১৫ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে স্যামসনের সঙ্গে গড়েন ২৬ বলে ৪২ রানের আগ্রাসী জুটি। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে স্যামসনের জুটিতে ২২ বলে আসে ৩৮ রান।

বাকিটা শিভাম দুবেকে নিয়ে সারেন স্যামসন। ক্রিজে গিয়ে প্রথম তিন বলে দুটি চার মেরে সমীকরণ একদম সহজ করে দেন দুবে।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল কেবল সাত রান। রোমারিও শেফার্ডের প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন স্যামসন। দুবের সঙ্গে তার জুটিতে ছয় বলে আসে ২০ রান।

হোল্ডার ও জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট, অন্যটি নেন আকিল হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ (হোপ ৩২, চেইস ৪০, হেটমায়ার ১২, রাদারফোর্ড ১৪, পাওয়েল ৩৪*, হোল্ডার ৩৭*; আর্শদিপ ৪-০-৪৩-০, পান্ডিয়া ৪-০-৪০-১, আকসার ৪-০-৩৫-০, বুমরাহ ৪-০-৩৬-২, ভারুন ৪-০-৪০-১)

ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (আভিশেক ১০, স্যামসন ৯৭*, ইশান ১০, সুরিয়াকুমার১৮, তিলাক ২৭, পান্ডিয়া ১৭, দুবে ৮*; আকিল ২-০-২২-১, ফোর্ড ৩-০-২২-০, হোল্ডার ৪-০-৩৮-২, মোটি ২-০-১৮-০, শেফার্ড ২.২-০-৩৪-০, জোসেফ ৪-০-৪২-২, চেইস ২-০-১৮-০)

ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাঞ্জু স্যামসন

পূর্বের খবরWhy are Afghanistan and Pakistan fighting?
পরবর্তি খবরRotary Club of Eskaton Dhaka Distributes Healthy Food to Mothers and Children