পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্রেনের কাছাকাছি সময়েই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াস ছিলেন। ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ট্রেনটিও রুশ হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে।
ইউক্রেনীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বরিস জনসন ও ডেভিড পেট্রেয়াসকে বহনকারী একটি ট্রেন পোল্যান্ড সীমান্তের একটি ক্রসিং দিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কাছাকাছি এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা হয়।
রেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ হামলার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলের সময়সূচি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তাই রুশ ড্রোনটির লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনও হয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছে।
তবে হামলার সময় ট্রেনটিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওয়ারশগামী ট্রেনে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে রাতেও তাদের কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রেন থেকে নামতে হয়েছিল।
সাধারণত রাজধানী কিয়েভ ও পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় পশ্চিম ইউক্রেন অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকলেও এবার ওই অঞ্চলও ব্যাপকভাবে হামলার শিকার হয়েছে। হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ডেও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের দোরোহুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্ত পারাপার এলাকা থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে একটি পণ্যবাহী ট্রাকেও হামলা হয়েছে।
বোরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তে একটি স্থির ইউক্রেনীয় রেল ইঞ্জিনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী যুক্তি ছিল, তিনি তা জানেন না। তবে তার মতে, ইউক্রেনের বেসামরিক রেলপথেও প্রতিদিন এমন ‘এলোমেলো ও অর্থহীন’ হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সরাসরি সীমান্তে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন লড়াই করছে যাতে রুশ হামলা ইউরোপের আরও ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে এবং রাশিয়ার আগ্রাসন যাতে আরও বিস্তৃত হতে না পারে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে ইউক্রেনের সীমান্ত পারাপারগুলোকে বাধাগ্রস্ত, অচল বা এমনকি ধ্বংস করার চেষ্টাও থাকতে পারে বলে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল পোল্যান্ড।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব রেলপথ ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এদিকে যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে লিথুয়ানিয়ায় একটি ঘটনা। রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। ন্যাটো অন্তত একটি যুদ্ধবিমানও পাঠায়। পরে জানা যায়, আকাশে দেখা বস্তুগুলো আসলে একঝাঁক পাখি। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দর আবার চালু করা হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




