হরমুজ প্রণালি খুলছে না ইরান, উত্তেজনা আরও তীব্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করার শামিল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েল-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফ্রন্টে ‘আগ্রাসী আচরণ’-এর অভিযোগ তোলেন।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও শর্ত হিসেবে অবরোধ ও হুমকি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চলমান অবরোধে সন্তুষ্ট এবং এটিকে কার্যকর মনে করছেন। সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ও ‘এপামিনন্ডাস’ নামের দুটি কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া চলাচল এবং নেভিগেশন তথ্য গোপন করার অভিযোগে এসব জাহাজ আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রিস জানিয়েছে, তাদের মালিকানাধীন একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, যদিও জব্দের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজও হামলার শিকার হলেও তা নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন থেকে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জন ফেলান-কে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাকে ইরান কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতি থাকলেও ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

পূর্বের খবর৩টি ইরানি ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তি খবরআদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং