সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি’: ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 

ভিনিউজ ডেস্ক: সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের সব মানুষের সবচেয়ে গর্বের পরিচয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ধর্মীয় গুরু, পুরোহিত, সেবায়েত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ সবার এবং নাগরিক হিসেবে এ দেশের প্রত্যেক মানুষের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। তাই রাষ্ট্রের কাছে কোনো নাগরিক সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নন; প্রত্যেকেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিদার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে-‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। ধর্ম যার যার হলেও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন এবং নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

তবে এই পুনর্গঠনের পথে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিভেদ সৃষ্টি বা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা হলে তা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে দেশের সব মানুষকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। পরে তিনি পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানীর অর্থ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে নয়জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে ভাতার অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে এই সম্মানী দেওয়া হয়।

এর আগে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর দপ্তর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান। তার এই পদযাত্রাও অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন মূলত উঠে আসে একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যয়ের কথা। তিনি মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের পরিচয় ধর্মীয় সম্প্রদায় দিয়ে নির্ধারিত হওয়ার কথা নয়। প্রত্যেকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

দেশ পুনর্গঠনের এই সময়ে বিভাজন ও গুজবের রাজনীতি পরিহার করে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আহ্বান-বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের আগে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন এবং ধর্মীয় পার্থক্যকে বিভেদের কারণ না বানিয়ে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করেন।

পূর্বের খবরপ্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের এনসিসিএফ কমিটি গঠন
পরবর্তি খবরশতবর্ষে উত্তম কুমার: পর্দার নায়ক থেকে বাঙালির চিরন্তন আবেগ
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!