ভিনিউজ ডেস্ক: দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই তারকা বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক এবার গড়াল আইনি পথে। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ভুয়ো তথ্য প্রচার, ছবি বিকৃত করা এবং পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে হেনস্থার অভিযোগ তুলে হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধ দমন শাখার দ্বারস্থ হয়েছেন বিজয় ও রশ্মিকা। দুই তারকার সহযোগী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয় ও রশ্মিকার হয়ে তাদের আপ্তসহায়ক পি নিশান্ত কুমার এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভুয়ো ছবি, বিকৃত কথোপকথনের দৃশ্য এবং তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর ফলে দুই তারকার ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সমালোচনা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করার কোনও উদ্দেশ্য নেই বলে স্পষ্ট করেছে বিজয়-রশ্মিকার সহযোগী দল। তাদের বক্তব্য, গঠনমূলক সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা কিংবা বেআইনিভাবে কাউকে হেনস্থা করার বিষয়টি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বিতর্কের সূত্রপাত জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ কর্ণ’-এর নবম সিজ়নের দ্বিতীয় পর্বকে কেন্দ্র করে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক কর্ণ জোহরের সঙ্গে কথোপকথনের সময় নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন বিজয় ও রশ্মিকা। একপর্যায়ে রশ্মিকা জানান, একবার বিমানবন্দরে বিজয়কে তিনি সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি বিয়েতে রাজি করাতে প্রায় এক বছর ধরে তাকে বোঝাতে হয়েছিল বলেও জানান অভিনেত্রী। বিজয়ের বক্তব্য ছিল, জীবনের এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনেই সময় নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন।
এই কথোপকথনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও কটাক্ষ। কেউ রশ্মিকার ভালোবাসাকে একতরফা বলে মন্তব্য করেন, আবার কেউ বিজয়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হয় অসংখ্য মিম ও ট্রোলিং। এমনকি বিতর্কের জেরে রশ্মিকা একে নারীবাদের মুখোশ পরে হেনস্থা করার প্রবণতা বলেও মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিজয় ও রশ্মিকার সহযোগী দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের যাচাই না করে কোনও তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।




