স্পোর্টস ডেস্ক | ভিনিউজ
বিশ্বকাপ শুধু নতুন তারকার জন্মই দেয় না, অনেক কিংবদন্তির বিদায়েরও সাক্ষী হয়। বয়স, ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপই হতে পারে ফুটবলের কয়েকজন মহাতারকার শেষ বিশ্বমঞ্চ। বিবিসির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন ১০ ফুটবলারের নাম, যাঁদের ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তালিকার শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন তিনি। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে তাঁর প্রভাব অটুট। এবারের আসরেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, একাধিক অ্যাসিস্ট এবং টানা সাত বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল-সব মিলিয়ে তাঁর বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হবে আবেগঘন এক মুহূর্ত।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লুকা মদরিচ। ৪০ বছর বয়সেও ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের প্রাণভোমরা তিনি। ২০১৮ সালে দলকে ফাইনালে এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থানে তুলে ধরতে তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ। এবারের আসরেও বয়সকে হার মানিয়ে অ্যাসিস্ট করে নতুন নজির গড়েছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
তৃতীয় স্থানে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ ও গোলের মালিক হলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তাঁর অধরা। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য এবারের আসরই সম্ভবত শেষ সুযোগ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণের।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক গোল্ডেন গ্লাভসও জিতেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
পঞ্চম স্থানে আছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারে একাধিক ধাক্কা খেলেও দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনও ছাড়েননি তিনি। ২০১৪ সালে নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে চোটে ছিটকে যাওয়ার স্মৃতি এখনও ব্রাজিল সমর্থকদের মনে তাজা।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইনে। বেলজিয়ামের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হলেও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে তাঁর। বয়স ৩৫ পেরোনোয় এটিই হতে পারে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।
সপ্তম স্থানে আছেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। ২০১৮ বিশ্বকাপে দল খেলতে না পারায় বিশ্বমঞ্চে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অষ্টম স্থানে জায়গা পেয়েছেন মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তবে বয়স বাড়ার কারণে ২০৩০ সালের আসরে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নবম স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিন। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেললেও এবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। বয়সের কারণে পরবর্তী বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণও অনিশ্চিত।
তালিকার দশম ও শেষ স্থানে আছেন সেনেগালের তারকা সাদিও মানে। চোটের কারণে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ মিস করলেও এবারের আসরে দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটিই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মেরই কিছু কিংবদন্তি থাকে, যাঁরা একসময় নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেন। মেসি, রোনালদো, মদরিচ, নেইমার কিংবা ডি ব্রুইনের মতো তারকারা সত্যিই যদি বিশ্বকাপকে বিদায় জানান, তবে ফুটবল বিশ্ব শেষ হতে দেখবে একটি স্বর্ণালি অধ্যায়ের।
-বিবিসি




