ভিনিউজ ডেস্ক: বিনোদনের সহজ লভ্যতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন আনন্দময় করেছে, তেমনি বাড়িয়েছে পর্দার প্রতি আসক্তির ঝুঁকি। মোবাইল ফোনে ছোট ছোট ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিল ঘাঁটা কিংবা রাত জেগে ওয়েব সিরিজ দেখার অভ্যাস অনেকের কাছেই এখন নিত্যদিনের বিষয়। কিন্তু বিনোদনের এই অভ্যাস কখন মানসিক চাপ ও ক্লান্তির কারণ হয়ে উঠছে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। এ বিষয়ে নিজের জীবনযাপনের একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নিমরত কৌর। তার বাড়িতে সবকিছু থাকলেও নেই টেলিভিশন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ডট কমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী বাড়িতে টেলিভিশন না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মূলত অতিরিক্ত সময় ধরে পর্দায় চোখ আটকে থাকার প্রবণতা এড়াতে। তার মতে, টেলিভিশনে সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ দেখতে শুরু করলে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। পছন্দের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেখার প্রবণতা থেকে তৈরি হতে পারে একধরনের নির্ভরশীলতা। আর সেই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানসিক অস্বস্তি ও চাপ বাড়তে পারে।
বর্তমানে শুধু টেলিভিশন নয়, স্মার্টফোনও মানুষের অবসর কাটানোর অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের জন্য মোবাইল হাতে নেওয়ার পর কখন যে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়, অনেকেই তা টের পান না। বিশেষ করে একের পর এক ছোট ভিডিও দেখার অভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাত জেগে এসব বিষয়বস্তু দেখার কারণে ঘুমের সময় কমে যায়। ফলে পরদিন সকালে ক্লান্তি, কাজে অনীহা, মনোযোগের ঘাটতি এবং সহজে বিরক্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত পর্দা ব্যবহারের সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ এবং মনোযোগের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। পছন্দের অনুষ্ঠান বা ভিডিও থেকে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও বিরতি না নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তা দেখতে থাকলে দৈনন্দিন কাজ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে পর্দায় কিছু দেখলেই মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট কারণ নেই। কতক্ষণ দেখা হচ্ছে, কী দেখা হচ্ছে এবং তা ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনকে কতটা প্রভাবিত করছে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
নিমরত কৌরের এই সিদ্ধান্তের অর্থ অবশ্য টেলিভিশন কিংবা মোবাইল ফোন পুরোপুরি বর্জন করা নয়। বরং বিনোদনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং নিজের অভ্যাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই এর মূল শিক্ষা। প্রতিদিন কতক্ষণ পর্দার সামনে সময় কাটানো হবে, তা আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে পছন্দের অনুষ্ঠান অসমাপ্ত থাকলেও দেখা বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

বিশেষ করে শোবার ঘরে টেলিভিশন বা ল্যাপটপ না রাখা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে আনা উপকারী হতে পারে। এর পরিবর্তে বই পড়া, গান শোনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পর্দা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা কঠিন। তবে বিনোদন যেন জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিমরত কৌরের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে—বিনোদনের জন্য আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে আমাদের সময় ও মনোযোগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে?




