তরুণদের নতুনভাবে জানাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার ওমর সাদাত

 

ভিনিউজ : গুলশান সোসাইটি সভাপতি ও সমাজকর্মী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন , তরুণদের নতুনভাবে জানাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার ।দেশের তরুণ সমাজ আজ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে পুরোপুরি অনুভব করতে পারে না, এটি তাদের দোষ নয়, বরং সময়, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রবাহের পরিবর্তনের ফল।মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ শুধু একটি বছর নয়, এটি আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে গুলশান সোসাইটি ও ইউনিভার্সিটির প্রেস লিমিটেডের যৌথ উদ্যো লেকপার্কে আয়োজিত “সাধারণের মুক্তিযুদ্ধ” বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় , ছায়ানটের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত করেন । আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিদ ও গবেষক আফসান চৌধুরী ও ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যতম সদস্য হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক, UPL এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরূখ মহিউদ্দিন ।

 

আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন , স্বাধীকার আর বহুল আকাঙ্ক্ষায় ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ, কালের বিবর্তনে দেশের তরুণ প্রজন্ম কী আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ভুলতে বসেছে? কেউ কেউ ৭১ কে দাঁড় করাতে চায় ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের বিপরীতে, এমন বিপরীতমুখী অবস্থান কেন? ৭১ আমাদের আমাদের অস্তিত্ব আর ২৪ আমাদের নতুন করে জাগবার প্রেরণা, সেজন্য আমাদের সবটাই ধারণ করতে হবে। কোনোটা রেখে আর কোনোটা ছেঁটে নয়।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ আজ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে পুরোপুরি অনুভব করতে পারে না, এটি তাদের দোষ নয়, বরং সময়, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রবাহের পরিবর্তনের ফল। যখন ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী কেনা বেচা হয়, ‌রূপকথার গল্পের মতো খোলনলচে পাল্টে যায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে, তখন তা হৃদয়ে পৌঁছায় না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি।

তিনি আরো বলেন, তাই এই দেশ বাঁচাতে এখন প্রয়োজন মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তরুণদের সামনে নতুন ও নির্মোহ দৃষ্টিতে জানানো। দরকার রাজনৈতিক গন্ডির বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস তুলে ধরা।মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ শুধু একটি বছর নয়, এটি আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব। যদি আমরা সঠিকভাবে তা উপস্থাপন করতে পারি, তবে নতুন প্রজন্ম অবশ্যই সেই চেতনায় অনুপ্রাণিত হবে। তারা বুঝবে স্বাধীনতার মূল্য কত গভীর, কত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া। তখন দেশপ্রেম হবে কেবল শব্দ নয়, বরং বাস্তব অনুভূতি। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে তারা দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসবে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন তখন বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে, যা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী ও মানবিক করে তুলবে নিশ্চয়ই। এটি সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

পূর্বের খবরবিবিসি বাংলা প্রতিবেদন : একাত্তরে যুদ্ধবন্দি ৯৩ হাজার পাকিস্তানি কীভাবে দেশে ফেরত গিয়েছিল?
পরবর্তি খবরনেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!