বিশেষ প্রতিবেদন
ভিনিউজ : ছয় দশক পর স্মৃতির পাতা খুললেন সনিয়া গান্ধী, প্রকাশিত হচ্ছে ‘বিলংগিং—আ জার্নি অব লাভ’ । প্রথম দেখা হয়েছিল কেমব্রিজের একটি ছোট্ট গ্রিক রেস্তরাঁয়। দুই ভিন্ন দেশের দুই তরুণ-তরুণী তখন পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে। একজন ইতালির মেয়ে সনিয়া মাইনো, অন্যজন ভারতের রাজীব গান্ধী। সেই প্রথম দেখাতেই রাজীবের প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন সনিয়া। মনে হয়েছিল, এই মানুষটির সঙ্গেই হয়তো কাটাতে চান জীবনের বাকি সময়। প্রায় ছয় দশক পর সেই প্রথম দেখার স্মৃতি, প্রেম, সংসার, রাজনীতি এবং হারানোর বেদনার গল্পই নতুন করে সামনে আনছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী ও কংগ্রেসের সাবেক সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।
আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং, আ জার্নি অব লাভ’। বইটি প্রকাশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিজের জীবনের নানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরছেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় এবং প্রেমের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন সনিয়া।
ভিডিওতে সনিয়া জানান, তখন তিনি এবং রাজীব দুজনেই শিক্ষার্থী। কেমব্রিজে ইউরোপীয় ও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ছিল এমন একটি ছোট্ট গ্রিক রেস্তরাঁয়। একদিন ইতালীয় খাবারের খোঁজে সেখানে ঢুকে পড়েন তিনি। পরে জানতে পারেন, জায়গাটি আসলে ইতালীয় নয়, গ্রিক রেস্তরাঁ। তবে খাবারের সন্ধানে সেখানে প্রবেশ করাই যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়ের সূচনা করবে, তা তখন কল্পনাও করেননি।

সেই রেস্তরাঁতেই প্রথম দেখা রাজীবের সঙ্গে। প্রথম দেখার অনুভূতি সম্পর্কে সনিয়া বলেন, রাজীবকে দেখেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে হয়েছিল, এমন একজন মানুষের সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। পরে জানতে পারেন, রাজীবও প্রথম সাক্ষাতেই একই ধরনের অনুভূতি পেয়েছিলেন। দুজনের একজনের পরিচিত এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক।
সনিয়ার ভাষায়, ‘রাজীব আর আমি ভালোবাসা, হাসি এবং স্মৃতিতে ভরা একটা পৃথিবী তৈরি করেছিলাম। আগামী ১০ নভেম্বর সেই পৃথিবী আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’
এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই যেন ধরা পড়েছে তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের আবেগময় অধ্যায়। ইতালির এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল সনিয়ার জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন। ১৯৬৮ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।
রাজীব গান্ধী প্রথম জীবনে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। রাজনীতির ব্যস্ততা, ক্ষমতার কেন্দ্রের নানা টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় তাঁদের সংসারজীবন। ১৯৯১ সালে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় রাজীব গান্ধী নিহত হলে সনিয়ার জীবনে নেমে আসে গভীর শোক।
রাজীবের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন সনিয়া। ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তবে রাজনীতির বাইরেও তাঁর জীবনের রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
এর আগে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে স্মৃতিকথার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সনিয়া জানিয়েছিলেন, বইটিতে রয়েছে ভালোবাসা, কর্তব্য, হারানোর বেদনা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার গল্প।
‘বিলংগিং-আ জার্নি অব লাভ’ তাই কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার স্ত্রীর স্মৃতিকথা নয়; বরং এক নারীর ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, পারিবারিক বন্ধন, শোক এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কাহিনি। ছয় দশক আগের কেমব্রিজের সেই ছোট্ট রেস্তরাঁ থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের গল্প এবার বইয়ের পাতায় বিশ্বজুড়ে পাঠকের সামনে আসতে চলেছে।
-আনন্দবাজার



