ভিনিউজ ডেস্ক : দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে মাঝ-আকাশে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বিমানের কো-পাইলট ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করার পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ওই কো-পাইলট যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন এবং তাঁদের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক বলে জানা গেছে। জর্ডানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে কো-পাইলট ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন। হামলায় আহত ক্যাপ্টেনের পরিচয় ভারতীয় নাগরিক স্মিত মচ্ছর বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
গুজরাতি বংশোদ্ভূত স্মিত ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের স্পাইসজেটে পাইলট হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ স্মিত অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার কাজও করতেন বলে জানা গেছে। হামলার পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা এক ইসরায়েলি যাত্রী ও একজন ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে কাবু করেন। পরে আরও কয়েকজন ক্রু ককপিটে প্রবেশ করেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, কো-পাইলটের আচরণ এবং বিমানের বিভিন্ন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টায় বোঝা যায়, তিনি বিমানটি যাত্রীসহ বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। যাত্রী ও ক্রুদের সাহসিকতার প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁদের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কো-পাইলটকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলেও তিনি জানান।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাট্জও ঘটনাটিকে ইসরায়েলি যাত্রীদের লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে ফ্লাইদুবাই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ককপিটে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটিকে তাবুকে অবতরণ করান। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও উদ্দেশ্য তদন্তাধীন উল্লেখ করে অনুমান বা জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরে যাত্রীদের তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—কেন মাঝ-আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটল এবং আদৌ বিমানটি পরিকল্পিতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না।
-আনন্দবাজার/টাইমস অব ইসরায়েল




