ডয়েসে ভেলে প্রতিবেদন : এর্দোয়ানকে ‘লাজুক একনায়ক’ বলায় তুরস্কে কৌতুকশিল্পীর বিচার

ডয়েসে ভেলে প্রতিবেদন : এর্দোয়ানকে ‘লাজুক একনায়ক’ বলায় তুরস্কে কৌতুকশিল্পীর বিচার

ভিনিউজ ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ানকে ‘লাজুক একনায়ক’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগে জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান দেনিজ গোকতাসের বিচার শুরু হয়েছে। ৩২ বছর বয়সি এই কৌতুকশিল্পীর বিরুদ্ধে এর্দোয়ানকে অপমান, জনমনে ঘৃণা ছড়ানো এবং অপরাধ ও অপরাধীর প্রশংসার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সোমবার আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় দেনিজ গোকতাস তার স্বভাবসুলভ রসবোধ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য দিয়ে আদালতকক্ষের পরিবেশও কিছুটা হালকা করে তোলেন। তার কয়েকটি মন্তব্য শুনে আদালতে উপস্থিত অনেকেই হাসতে শুরু করেন।

গোকতাসের বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযোগ, একটি স্ট্যান্ড-আপ অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানকে ‘লাজুক একনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতে তিনি ওই বক্তব্য অস্বীকার করেননি। তবে তার দাবি, এই বক্তব্যের মধ্যে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।

আদালতে গোকতাস বলেন, ‘‘একনায়ক কোনো গালি বা অপমানসূচক শব্দ নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়।’’ তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করা একটি দলের নেতা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠানে এর্দোয়ানের নাম না নেওয়াটাই বরং বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কমেডিতে দেশের ক্ষমতাসীন নেতাদের নিয়ে কথা বলা স্বাভাবিক বিষয়। এ ধরনের ব্যঙ্গকে অপরাধ হিসেবে দেখার পরিবর্তে কৌতুক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। গোকতাস আরও বলেন, ‘‘কৌতুকশিল্পের প্রতি এর্দোয়ান আরও সহনশীল হতে পারতেন।’’

সম্প্রতি তার ‘ডেড সি’ নামের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও ইউটিউবে ৯০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই কৌতুকশিল্পীকে গত ৩ জুলাই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ৮৮ দিন কারাভোগের পর সোমবার তার মামলার শুনানি শুরু হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় গোকতাস বলেন, অতীতে তুরস্কের সমাজ ও ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং সমালোচনাকে তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতেন। তার দাবি, আইন বদলে না গেলেও বাস্তবে একজন কৌতুকশিল্পীকে তার বক্তব্যের জন্য কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘কৌতুকশিল্প বদলায়নি, যা বদলেছে তা হলো ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়া নেতৃত্ব। তারা আর সেই কৌতুক সহ্য করতে পারছে না।’’ নিজের কারাভোগের প্রসঙ্গেও আদালতে রসিকতা করেন গোকতাস। তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবন থেকে তিনটি মাস কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আমি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এমনিতেই বাড়তি তিন মাস যোগ করে নেব।’’

তার এই মন্তব্যে আদালতে উপস্থিত অনেকেই হাসতে হাসতে করতালি দেন।

এদিকে গোকতাসের বিচারকে ঘিরে আদালতের বাইরে সমর্থকেরাও জড়ো হন। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে অবস্থান নিয়ে ‘দেনিজ গোকতাস একা নন’ বলে স্লোগান দেন।

২২ বছর বয়সি ফাতিহ ইলমাজ এএফপিকে বলেন, গোকতাস গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তিনি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এ ঘটনায় তিনি ভয় পাচ্ছেন না। বরং কারাগারে থেকেও গোকতাসের দৃঢ়তা ও রসবোধ তাকে অনুপ্রাণিত করছে।

অবসরপ্রাপ্ত নেসরিন দেমিরকান বলেন, গোকতাস তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে তাকে ছোট একটি সেলে আটকে রাখা হয়েছে—বিষয়টি তাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছে।

এর্দোয়ানের ইসলামপন্থি-রক্ষণশীল সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গোকতাসের মামলা সেই বিতর্কে নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের সীমা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

পূর্বের খবরবিবিসি প্রতিবেদন : দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২৭ জন নিহত
পরবর্তি খবরদুই কন্যার মা দীপিকা, মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন চমক
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!