গাজায় কোনো মানবিক করিডর এখনো চালু হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার সমালোচনা করে তিনি এ আক্ষেপ করেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি। আগামী মে মাসে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার আগে এটিই জাতিসংঘে তার শেষ ভাষণ।
মাখোঁ বলেন, এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিলেন, স্বীকৃতি শুধু একটি কাগজ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শান্তির দাবি করা হলেও এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফ্রান্সে মাখোঁ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
মাখোঁ বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা প্রতিদিন ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান করে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
গত এক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। মাখোঁ বলেন, ইসরায়েলের সব প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন ধারণা ভুল। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই দুর্বল করছে।
২০১৭ সালে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন মাখোঁ। আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এবারের ভাষণটি ছিল জাতিসংঘে তার শেষ উপস্থিতি।
সূত্র: রয়টার্স




