ভিনিউজ ডেস্ক: মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। সন্তান জন্ম দেওয়া, তাকে বড় করে তোলা, সংসার সামলানো-সব মিলিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। কিন্তু সমাজের চোখে যেন এসবের কোনো মূল্য নেই। বিশেষ করে সেই নারী যদি হন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, তাহলে সন্তান জন্মের পর তাঁর শরীর কত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরল, সেটিই হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু।
২০২২ সালে কন্যাসন্তান দেবীর জন্মের পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন পর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, সন্তান জন্মের পর নারীর শরীর নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা এখনও অত্যন্ত অদ্ভুত এবং অবাস্তব।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিপাশা বলেন, একজন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর যেন রাতারাতি আগের চেহারায় ফিরে যাবেন-এমন প্রত্যাশা করা হয়। অথচ সন্তান জন্মের পর শরীর ও মনকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে একজন নারীর সময় প্রয়োজন।
বিপাশার প্রশ্ন, ২০ বছর বয়সী একটি মেয়ের শরীরের সঙ্গে কেন ৪০ বছর বয়সী একজন মায়ের শরীরের তুলনা করা হবে? তাঁর মতে, বয়স ও মাতৃত্বের বাস্তবতা উপেক্ষা করে নারীদের একই ধরনের সৌন্দর্যের মানদণ্ডে বিচার করা অত্যন্ত অন্যায়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, মেয়ে দেবীর জন্মের পর তাঁকে ভয়াবহভাবে সমালোচিত হতে হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের পাশাপাশি ছবি শিকারিদের আচরণও তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় কয়েকজন চিত্রগ্রাহক তাঁর এমন কিছু ছবি তুলেছিলেন, যেগুলো তাঁর কাছে ছিল ‘অদ্ভুত’ এবং বিব্রতকর।
বিপাশার বক্তব্য, একজন নারী মা হওয়ার পর একই সঙ্গে বহু দায়িত্বের ভার বহন করেন। সন্তানকে সময় দেওয়া, সংসার সামলানো, নিজের যত্ন নেওয়া এবং নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে নানা ধরনের মানসিক চাপও সামলাতে হয়। কিন্তু এসবের দিকে সমাজের খুব একটা নজর থাকে না। বরং সবার আগ্রহ থাকে-মা হওয়ার পর তিনি দেখতে কেমন হয়েছেন এবং কত দ্রুত আগের চেহারায় ফিরছেন।

অভিনেত্রীর কথায়, একজন মায়ের পরিশ্রম, ঘুমহীন রাত কিংবা সন্তানের জন্য করা ত্যাগের চেয়ে তাঁর শরীরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার এই প্রবণতা বদলানো প্রয়োজন। মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীর বদলালে সেটিকে দুর্বলতা বা সৌন্দর্যের ঘাটতি হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

তবে এত সমালোচনার পরও নিজের আত্মবিশ্বাস হারাননি বিপাশা। তিনি মনে করেন, তাঁর জীবন ও শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজের। অন্যের মন্তব্য তাঁর জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করবে-এমনটা তিনি চান না।
বিপাশার এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত গল্প নয়। সন্তান জন্মের পর অসংখ্য নারীর ওপর যে অবাস্তব শারীরিক সৌন্দর্যের চাপ তৈরি করা হয়, তারই একটি চিত্র সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য যেন মনে করিয়ে দেয়-একজন নতুন মায়ের কাছে ‘আগের মতো’ হয়ে ওঠার চেয়ে সুস্থ থাকা, নিজের সন্তানকে সময় দেওয়া এবং নিজের নতুন জীবনকে গ্রহণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।




