রুশ ব্যালিস্টিকরু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভ অঞ্চলে নিহত অন্তত ১৪, আহত ২২

ভিনিউজ ডেস্ক : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে বুধবার গভীর রাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে কিয়েভ অঞ্চলে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের রাজধানীতে মধ্যরাতের পরপরই হামলা শুরু হয়। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভ অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। হামলার সময় শহর ও আশপাশের এলাকায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।

কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, গুদামঘর এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর কাজ করেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালান।

তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বোরিসপিল জেলায়, যেখানে নয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বুচা জেলায় চারজন এবং ফাস্তিভ জেলায় একজন নিহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেন আবারও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব স্থাপনা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও বিতরণ এবং ড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় ওডেসা বন্দরের কাছে তিনটি মালবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। এর জবাবে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন-উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে একে অপরের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দেওয়া অনেক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নিরপেক্ষ নিশ্চিত তথ্য সব সময় পাওয়া যায় না।

পূর্বের খবরজুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি খবরদীপিকা এমন সব গালাগাল দিল, যা আমি জীবনেও শুনিনি-জয়তী
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!